Eng
জাতীয়, লিড নিউজ, সিলেট

সিলেটে ফার্মেসির গোডাউনে মিলল সরকারি ভ্যাকসিন

প্রকাশিত: , ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ৯:৫৬ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার ফেমাস মার্কেটের একটি ফার্মেসির গোডাউনে সরকারি ভ্যাকসিন ও বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই অভিযানে নগরীর অন্য একটি দোকানে নকল সিগারেট বিক্রির অভিযোগে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার তানভীর হোসাইন সজীব।
জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযান চলাকালে ফেমাস মার্কেটের কয়েকটি ফার্মেসির ব্যবসায়ীরা ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি টের পেয়ে দোকানের শাটার বন্ধ করে চলে যান। পরে সংশ্লিষ্ট ফার্মেসিগুলোতে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশির একপর্যায়ে মেসার্স জাকির ফার্মেসির গোডাউনে সরকারি ভ্যাকসিন ও বিভিন্ন ধরনের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া যায়। এসব অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
অভিযানে পাওয়া ভ্যাকসিনের মধ্যে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভ্যাকসিনও ছিল বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হোসাইন সজীব। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের গোডাউনে এ ধরনের সরকারি ভ্যাকসিন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়ার বিষয়টি অপ্রত্যাশিত। এ ঘটনায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয়েছে।

এদিকে, সিলেট নগরীর মির্জাজাঙ্গাল এলাকায় নকল সিগারেট বিক্রির অভিযোগে প্রত্যাশা বাজার নামের একটি মুদিদোকানকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। একই অভিযানের অংশ হিসেবে দোকানটির বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ভোক্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওষুধের দোকানগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
ওষুধের দোকানে সরকারি ভ্যাকসিন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের উপস্থিতি জনস্বাস্থ্য ও ওষুধ সংরক্ষণের নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। সরকারি ভ্যাকসিন সাধারণত নির্দিষ্ট কর্মসূচি ও ব্যবস্থাপনার আওতায় ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করা হয়। ফলে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের গোডাউনে এ ধরনের ভ্যাকসিন পাওয়া গেলে তা কীভাবে সেখানে এসেছে এবং সংরক্ষণের পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।

তবে উদ্ধার হওয়া ভ্যাকসিনের পরিমাণ, সেগুলো কীভাবে ফার্মেসির গোডাউনে পৌঁছেছে এবং সেগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। এসব বিষয় স্পষ্ট হলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হতে পারে।