
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
চট্টগ্রামে দুর্গাপূজা ঘিরে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণকে জাতীয় ঐক্যের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাঁর মতে, একটি দেশকে আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র আট মাসের মধ্যে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এবারের পূজার আয়োজন একটি বৃহত্তর সামাজিক মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে। এই উৎসবে শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীরাই নন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সমাজকর্মী, পেশাজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও অংশ নিচ্ছেন।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তিনি একই স্থানে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। সে সময় পূজা উদ্যাপন কমিটির সদস্যদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। এরপর থেকে এবারের উৎসবের যে পরিবেশ তিনি দেখেছেন, তা তাঁর কাছে ব্যতিক্রমী বলে মনে হয়েছে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম নগরীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ পূজার আয়োজনকে সবার মিলনস্থলে পরিণত করেছে। তাঁর মতে, ভিন্ন ধর্ম ও পেশার মানুষের সম্মিলিত উপস্থিতি সামাজিক সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সমাজ ও রাজনীতিতে পরিবর্তনের প্রভাব দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান হচ্ছে। বিগত নির্বাচনের পর রাষ্ট্র ও সমাজে যে পরিবর্তন এসেছে, তার সঙ্গে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশ গড়ার উদ্যোগের সম্পর্ক রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। প্রধানমন্ত্রীও বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে পুরো জাতিকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, একটি রাষ্ট্রের আধুনিক হয়ে ওঠার জন্য নাগরিকদের নিরাপত্তা, ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক পরিবেশ এবং ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে বিভিন্ন সময় এসব ক্ষেত্রে প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, মানুষের জীবন নিরাপদ না থাকা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়া এবং ভিন্নমতের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা কঠিন। একটি কার্যকর ও আধুনিক রাষ্ট্র গড়তে হলে সব নাগরিকের অংশগ্রহণ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিবেশ থাকা প্রয়োজন।
এবারের পূজায় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণকে এই পরিবর্তনের একটি দৃশ্যমান দিক হিসেবে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর মতে, উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের একত্র হওয়া জাতীয় সংহতি জোরদারে ভূমিকা রাখতে পারে।
জেএম সেন হল পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত এই পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে উৎসবের পরিবেশ এবং সামাজিক সম্প্রীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে ধর্মীয় উৎসবে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব উঠে আসে।



