Eng
আইন-আদালত, কক্সবাজার, জাতীয়, রাজনীতি, লিড নিউজ

হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে একরাম হত্যা মামলায় শুনানি

প্রকাশিত: , ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:০৬ অপরাহ্ণ




নিজস্ব প্রতিবেদক:

কক্সবাজারের টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি আজ। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এ শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে শুনানিটি হবে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবে।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল। তবে ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ না থাকায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির নতুন তারিখ ঠিক করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ২৭ অক্টোবর দিনটি নির্ধারণ করা হয়েছে।
মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামি
এ মামলায় মোট ১১ জন আসামির মধ্যে চারজন বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম এবং র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান।

অন্যদিকে, শেখ হাসিনাসহ বাকি সাত আসামি পলাতক রয়েছেন বলে মামলার তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ।
আত্মসমর্পণের নির্দেশ, নিয়োগ আইনজীবী
মামলার কার্যক্রমে পলাতক সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত ৭ সেপ্টেম্বর এ আদেশ দেওয়া হয়। এর আগে ২৫ আগস্ট আসামিদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশনা দিয়েছিলেন আদালত।
৭ সেপ্টেম্বর মামলার নির্ধারিত হাজিরার দিনে গ্রেপ্তার চার আসামি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হন। তবে অন্য সাত আসামি আত্মসমর্পণ করেননি। এর আগে ২৬ জুলাই ১১ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছিল।
যে অভিযোগে মামলা
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফের কিরণতলীতে হোটেল নেটংয়ের সামনের সড়ক থেকে একরামুল হককে তুলে নেওয়া হয়। পরে রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ায় মেরিন ড্রাইভের সমুদ্রতীরে র‍্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিহত একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে আটক, অপহরণ, বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা সাজিয়ে গুলি করে হত্যা, অপরাধ সংঘটনে সংশ্লিষ্টতা, প্ররোচনা, সহায়তা এবং হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। আজকের শুনানিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।