Eng
আন্তর্জাতিক, লিড নিউজ

অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে মধ্যরাতে আঘাত হানল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব

প্রকাশিত: , ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | ৮:৫৪ অপরাহ্ণ




নিজস্ব প্রতিবেদক:

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হেনেছে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। বুধবার (২৮ অক্টোবর) মধ্যরাতে ঝড়টির প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি জরুরি সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বুধবার রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানে। ঝড়টির অগ্রভাগ নির্ধারিত সময়ের আগেই স্থলভাগে প্রবেশ করতে শুরু করে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মধ্যরাত থেকে ভোরের মধ্যে এর প্রভাব উপকূলীয় অঞ্চলে আরও বিস্তৃত হয়।
ভারতের আবহাওয়া বিভাগের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। ঝড়টির কেন্দ্র অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকার দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলজুড়ে মুষলধারে বৃষ্টি ও শক্তিশালী বাতাস অব্যাহত রয়েছে। স্থলভাগে ঝড়টির প্রবেশপ্রক্রিয়া কয়েক ঘণ্টা ধরে চলতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে নিচু এলাকা, উপকূলবর্তী জনবসতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বিমান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটতে পারে। উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ওড়িশার ভুবনেশ্বরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঝড়ের গতিপথ ও আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে হায়দরাবাদ, বারাণসী, প্রয়াগরাজ ও গোরখপুরের বিমান চলাচলেও বিলম্ব হতে পারে।
সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডুর তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্যজুড়ে ২ হাজার ১৯৯টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্যোগ চলাকালে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। ঘূর্ণিঝড়ের পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী সময়ে উদ্ধার ও জরুরি সেবার কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে ঝড়ের কারণে হতাহত, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি কিংবা সামগ্রিক পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির আরও অবনতি বা উন্নতি হতে পারে।