Eng
জাতীয়, ঢাকা, লিড নিউজ

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলে নতুন বিধিমালা জারি

প্রকাশিত: , ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ৯:৩৯ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন বিধিমালা জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। নতুন নিয়মে ই-রিকশার নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ গতিসীমা, যাত্রী পরিবহনের সীমা, নিবন্ধন ফি, ফিটনেস ও কারিগরি নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন শর্ত।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। বিধিমালাটি দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী ই-রিকশার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার নিবন্ধন নিতে হবে পাঁচ বছরের জন্য। সাধারণ পরিস্থিতিতে এসব যানবাহনের সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে হবে।
ই-রিকশা চলাচলের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। এসব যানবাহনকে সড়কের বাম লেন ব্যবহার করতে হবে। জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং প্রধান বাস চলাচলের সড়ক বা করিডোরে ই-রিকশা চালানো যাবে না।
যাত্রী পরিবহনে যানবাহনের ধরন ও ধারণক্ষমতা অনুযায়ী সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। চালক বাদে কোনো ই-রিকশায় সর্বোচ্চ দুইজন, আবার কোনো ই-রিকশায় সর্বোচ্চ চারজন যাত্রী বহন করা যাবে। যাত্রীর হাতে বহনযোগ্য ব্যক্তিগত মালামাল ছাড়া অন্য বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৪০ ডেসিবেলের বেশি শব্দের হর্ন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

নিবন্ধন ও ফি নির্ধারণ
নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক এবং কমপক্ষে ১৮ বছর বয়সী হতে হবে। নির্ধারিত আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি জমা দিতে হবে। আবেদন যাচাইয়ের পাশাপাশি ই-রিকশার নকশা, প্রযুক্তিগত মান ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা হবে।
প্রজ্ঞাপনের বিধান অনুযায়ী, সব শর্ত পূরণ হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট হলে আবেদন পাওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
যাত্রী ধারণক্ষমতার ভিত্তিতে নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। দুইজন যাত্রী বহনে সক্ষম ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি আট হাজার টাকা। এর বার্ষিক নবায়ন ফি চার হাজার টাকা। অন্যদিকে, চারজন যাত্রী বহনে সক্ষম ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি পাঁচ হাজার টাকা। প্রতিটি যানবাহনের ফিটনেস সনদের জন্য দিতে হবে এক হাজার টাকা।
নিবন্ধিত প্রতিটি ই-রিকশার জন্য কিউআর কোডযুক্ত পৃথক নিবন্ধন নম্বর ও নম্বর প্লেট দেওয়া হবে। যানবাহনের দৃশ্যমান স্থানে তা প্রদর্শন করতে হবে। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে একটি সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশনে বাণিজ্যিকভাবে চালানো যাবে না।

নিরাপত্তা ও চালকদের দায়িত্বে কড়াকড়ি
ই-রিকশার কারিগরি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি যানবাহনে স্পিডোমিটার অথবা ওডোমিটার স্থাপন করতে হবে। যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত, নিরাপত্তাঝুঁকিপূর্ণ কিংবা নিবন্ধনবিহীন ই-রিকশা সড়কে চালানো নিষিদ্ধ।
বর্তমানে চলাচলরত ই-রিকশাগুলোকেও নিবন্ধন পেতে বুয়েটের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নকশাগত পরিবর্তন করতে হবে। নিবন্ধনের মেয়াদ থাকবে পাঁচ বছর। মেয়াদ শেষ হলে নির্ধারিত ফি দিয়ে নবায়ন করতে হবে। নিবন্ধন গ্রহণ বা নবায়ন ছাড়া সড়কে চলাচলের অনুমতি থাকবে না।
বিধিমালায় প্রতিটি ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নিবন্ধনের তারিখ থেকে ১২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়সীমা শেষ হলে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের নিবন্ধন ও নম্বর প্লেট বাতিল করতে হবে।
ব্যাটারি চার্জের জন্য সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট অথবা নির্ধারিত গ্যারেজ ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে। এসব স্থানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি কিংবা সৌরশক্তি ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখার কথা বলা হয়েছে।

নতুন নিয়মে অনুমোদিত গতিসীমা অতিক্রম, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার, যানবাহনের কাঠামো বা মোটর পরিবর্তন এবং নিষিদ্ধ সড়কে চলাচলকে দণ্ডনীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো ও দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও দণ্ডনীয় অপরাধের আওতায় রাখা হয়েছে।
দুর্ঘটনা ঘটলে চালককে তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ি থামাতে হবে। নতুন বিধিমালার মাধ্যমে ই-রিকশার নিবন্ধন, নিরাপত্তা ও চলাচল ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।