Eng
অর্থনীতি, জাতীয়, ঢাকা, লিড নিউজ

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের কার্যক্রম শুরু রোববার

প্রকাশিত: , ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ৯:২৪ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের লক্ষ্যে আগামী ১ নভেম্বর, রোববার থেকে মজুরি বোর্ড গঠনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে মজুরি পুনর্নির্ধারণের যে দাবি উঠে আসছে, তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ ঘোষণা দেন। নিজ বাসভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি ও সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানান তিনি।

বৈঠক পরবর্তী বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ হয়েছে। আগামী রোববার সকাল থেকে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে শ্রমিকদের প্রত্যাশিত দাবি পূরণের বিষয়ে সুখবর আসতে পারে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তবে নতুন মজুরি কত হবে, কোন প্রক্রিয়ায় তা নির্ধারণ করা হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে আসবে, সে বিষয়ে ঘোষণায় বিস্তারিত জানানো হয়নি। ফলে মজুরি বোর্ড গঠনের পরবর্তী কার্যক্রম ও সিদ্ধান্তের দিকে নজর থাকবে পোশাকশ্রমিকদের।

মন্ত্রী শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পকারখানার টিকে থাকার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শ্রমিকদের পাওনা ও ন্যায্য দাবি পূরণের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বজায় রাখাও জরুরি। এ ক্ষেত্রে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই খাতে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কাজ করেন। তাঁদের জীবনযাত্রার ব্যয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য এবং পারিবারিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি নির্ধারণের বিষয়টি শ্রমিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

মন্ত্রী আরও দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে শ্রমিকদের বকেয়া ও নিয়মিত মজুরি পরিশোধ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তাঁর বক্তব্যে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের পাশাপাশি শিল্প খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষার বিষয়টিও উঠে আসে।

মজুরি বোর্ড গঠনের কার্যক্রম শুরু হলে শ্রমিকদের প্রত্যাশা, মালিকপক্ষের অবস্থান এবং সংশ্লিষ্টদের আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্তের পথ তৈরি হতে পারে। তবে চূড়ান্ত মজুরি নির্ধারণ ও কার্যকরের সময়সীমা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন হিসেবেই বিবেচিত হবে।