Eng
জাতীয়, ঢাকা, লিড নিউজ, শিক্ষা, সারা দেশ

ফেল করা এইচএসসি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শিগগিরই, প্রস্তুতিতে এক মাস: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত: , ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ১:১০ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে সর্বোচ্চ এক মাস প্রস্তুতির সময় দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিয়ে দ্রুতই তাদের পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য এক মাসের বেশি সময় দেওয়া হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ দিয়ে শিগগিরই তাদের পুনরায় পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। তবে পরীক্ষার সুনির্দিষ্ট তারিখ, সময়সূচি ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

ফলে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ঘোষণা ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনার দিকে নজর রাখতে হবে।

এইচএসসিতে এবার পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ

চলতি বছরের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, সারা দেশে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছর মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।

পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ছিলেন ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন। অন্যদিকে ছাত্রী ছিলেন ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। অর্থাৎ, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীর সংখ্যা ২৬ হাজার ৬৪৫ জন বেশি।

প্রকাশিত ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে পার্থক্য দেখা গেছে। সামগ্রিক পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ হলেও সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জনের সংখ্যায় বোর্ডগুলোর অবস্থান এক রকম নয়।

জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে শীর্ষে ঢাকা বোর্ড

বোর্ডভিত্তিক পরিসংখ্যানে জিপিএ-৫ অর্জনে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডের ১৬ হাজার ৭১৪ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড পেয়েছেন।

অন্যদিকে, জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায় সবচেয়ে নিচে রয়েছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডের ৮৮৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।

ফলাফলের এই পরিসংখ্যান থেকে বোর্ডভেদে সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জনের সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়। তবে শুধু জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা দিয়ে কোনো বোর্ডের সামগ্রিক শিক্ষার মান নির্ধারণ করা যায় না। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা, পাসের হারসহ অন্যান্য বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার সুযোগের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। নতুন করে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলে তারা ফল উন্নয়নের চেষ্টা করতে পারবেন। তবে এ সুযোগের ক্ষেত্রে কারা অংশ নিতে পারবেন, কয়টি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে এবং পরীক্ষার নিয়ম কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা জানা প্রয়োজন।

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রস্তুতির জন্য সর্বোচ্চ এক মাস সময় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই পড়াশোনার প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা বোর্ডের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা জরুরি।

পরীক্ষার চূড়ান্ত সময়সূচি ও অংশগ্রহণের শর্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হলে শিক্ষার্থীরা সে অনুযায়ী প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন।