Eng
অর্থনীতি, জাতীয়, ঢাকা, লিড নিউজ

উড়োজাহাজ কেনার অর্থ দেবে বিমান, সরকার থাকবে গ্যারান্টর: বিমান মন্ত্রী

প্রকাশিত: , ১ নভেম্বর ২০২৬ | ৯:৪০ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নতুন উড়োজাহাজ কেনার অর্থ সরকার সরাসরি পরিশোধ করবে না। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি নিজেদের আয় থেকে ধাপে ধাপে উড়োজাহাজ কেনার অর্থ পরিশোধ করবে। এ ক্ষেত্রে সরকার শুধু গ্যারান্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় সভায় তিনি এ তথ্য জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী।
সভায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ ক্রয়, সংস্থাটির আধুনিকায়ন এবং মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো আলোচনায় আসে।
মন্ত্রী বলেন, গত দুই দশকে ধারাবাহিক জবাবদিহিতার ঘাটতির কারণে বিভিন্ন সময়ে পরিকল্পনার যথাযথ সমন্বয় ছাড়াই নানা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার যেকোনো ধরনের কেনাকাটায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ভূমিকার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ সময় কমিটির সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, সংস্থাটিকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করে গড়ে তুলতে ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে দেরি হলে ভবিষ্যতে উড়োজাহাজের সংকটে পড়তে পারে বিমান।
মন্ত্রী বলেন, নতুন উড়োজাহাজ কেনার পর সেগুলো বহরে যুক্ত হতে প্রায় ১০ বছর সময় লাগতে পারে। এই সময়ের মধ্যে বর্তমানে ব্যবহৃত উড়োজাহাজগুলোর কয়েকটি পর্যায়ক্রমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে। ফলে আগাম পরিকল্পনার মাধ্যমে বহর সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
তবে উড়োজাহাজ কেনার আর্থিক কাঠামো, ঋণ পরিশোধের শর্ত এবং ক্রয়প্রক্রিয়ার বিস্তারিত বিষয়ে সভায় কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, সে সম্পর্কে আলাদা কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
অতীতের কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আগে যেসব অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা হয়েছে, সেগুলোর যথাযথ তদন্ত করা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সেখানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপনের জন্য প্রায় ২ হাজার একর জমির প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি বড় আকারের ওয়াইড বডি উড়োজাহাজ ওঠানামার উপযোগী রানওয়ে তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আধুনিকায়ন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কতটা নিশ্চিত করা যায়, তা সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলোর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে।