Eng
আইন-আদালত, জাতীয়, ঢাকা, লিড নিউজ

মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সতর্ক পুলিশ, স্বাভাবিক যান চলাচল

প্রকাশিত: , ২ নভেম্বর ২০২৬ | ২:৩৪ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। তবে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। একই সঙ্গে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
সোমবার (২ নভেম্বর) মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকার পুলিশ বক্সের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মো. মহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবিকে কেন্দ্র করে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। রোববার শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গেও পুলিশের কথা হয়েছে।
ডিএমপির এই কর্মকর্তা জানান, মজুরি বোর্ড গঠনের খবর প্রকাশের পর শ্রমিকদের আন্দোলন বন্ধ হওয়ার কথা ছিল। সোমবার মিরপুর এলাকায় আন্দোলন করতে শ্রমিকদের উপস্থিতি দেখা যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যানবাহন চলাচলে স্বাভাবিক অবস্থা বজায় আছে বলে জানান তিনি।

শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য এলাকায় পুলিশের সদস্যদের মোতায়েন রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের টহল দলও দায়িত্ব পালন করছে।
মহিদুল ইসলাম বলেন, আন্দোলনের আড়ালে কেউ যেন সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর কিংবা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। জনগণের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে মিরপুর এলাকার আশপাশে কয়েকটি পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। তবে এসব কারখানা বন্ধ থাকার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কারখানা ছুটির খবর থাকলেও সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেনি।
এর আগে রোববার মিরপুরের ১২ নম্বর এলাকায় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে জানান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার। এ ছাড়া বিভিন্ন অভিযানে মিরপুর বিভাগ থেকে ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মহিদুল ইসলাম বলেন, আইন লঙ্ঘন করে সড়ক অবরোধ, গাড়ি বা কারখানায় ভাঙচুর এবং মানুষের জানমাল কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করার চেষ্টায় জড়িতদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি ও চলমান আলোচনা পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপ্রকৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এ অবস্থায় মিরপুর এলাকায় জননিরাপত্তা বজায় রাখা এবং স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করতে পুলিশের সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে।