Eng
ঢাকা, লিড নিউজ

বাসে শুধু রং করলেই ঢাকায় বাস রুট রেশনালাইজেশন সফল হবে না

প্রকাশিত: , ৩ নভেম্বর ২০২৬ | ৯:১৫ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

ঢাকার সড়ক পরিবহনব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা আনতে বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি বা রুট রেশনালাইজেশন বিশ্বজুড়ে একটি স্বীকৃত ও বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপ। তবে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও আগাম পরিকল্পনা ছাড়া এটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করায় অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগগুলো ব্যর্থ হয়েছে। প্রস্তুতি না নিয়ে পুরোনো লক্কড়ঝক্কড় যানবাহনে রং ছিটিয়ে নামিয়ে দেওয়ায় প্রত্যাশিত সুফল মিলছে না।

রাজধানীর গণপরিবহনব্যবস্থাকে শৃঙ্খলায় ফেরাতে কোম্পানিভিত্তিক বাস চালানোর বিকল্প নেই বলে বারবার জোর দিয়েছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। রাজনৈতিক সুপারিশে গত কয়েক দশকে নগরে প্রায় ৪০০টি বাসরুটের পারমিট দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ঢাকার মূল ২০০ কিলোমিটার সড়কে প্রায় চার হাজার চালকের নিয়ন্ত্রণে আট হাজার বাস চলাচল করছে। নির্দিষ্ট বে এর অভাব এবং প্রতিযোগিতা করে বাস থামানোর কারণে পুরো ঢাকা শহর কার্যত বাসস্টপে পরিণত হয়েছে, যা নিয়মিত প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনার জন্ম দিচ্ছে।

বর্তমান বিএনপি সরকার নগরীর পরিবহনব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে প্রধান মোড়ে এআই ক্যামেরা লাগানো, স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল বাতি স্থাপন এবং ছয়টি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চালু করা। ঢাকা সড়ক পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) নতুন করে এই ব্যবস্থা সচল করলেও শুরুর অভিজ্ঞতায় বড় ধরনের গলদ ও পরিকল্পনার ঘাটতি সামনে এসেছে।

মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নতুন বাস যুক্ত না করে পুরোনো গাড়িতেই নতুন রং মেখে রাস্তায় নামানো হয়েছে। পূর্বের মতোই রাস্তার মাঝখানে হুটহাট যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে এবং অধিকাংশ স্থানে টিকিট কাটার বুথ অনুপস্থিত। এমনকি ড্রাইভার ও সহকারী কর্মীদের আচরণে কোন সুশৃঙ্খল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। অথচ প্রকৃত রুট রেশনালাইজেশনের শর্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্থানে গাড়ি থামবে, জিপিএস ট্র্যাকিং দিয়ে চলাচল মনিটর করা হবে এবং বাস কাউন্টার থেকে ই-টিকিট কেটে যাত্রী সোপান ধরে সুনির্দিষ্টভাবে বাসে উঠবেন।

ভারতে কলকাতার মতো পাশের দেশের বড় শহরসহ বিশ্বজুড়ে এমন মডেল সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও দেশীয় বিশেষজ্ঞদের পরিবহনসংক্রান্ত পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত জ্ঞান রয়েছে। সঠিক রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি, সরকারি তহবিল বরাদ্দ এবং দেশি-বিদেশি অভিজ্ঞতার সুষ্ঠু সমন্বয় ঘটাতে পারলে ঢাকায় একটি সুশৃঙ্খল ও আধুনিক বাস পরিষেবা গড়ে তোলা সম্ভব।