
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এক বড় ধরনের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টিকে হটিয়ে সিনেটের একক নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। প্রতিপক্ষের কাছ থেকে চারটি আসন ছিনিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে তারা সিনেটে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে। অথচ এক বছর আগেও ডেমোক্র্যাটদের এই ধরনের ঘুরে দাঁড়ানোকে প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হচ্ছিল।
নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণে ডেমোক্র্যাটদের ন্যূনতম চারটি আসন বাড়ানোর বাধ্যবাধকতা ছিল। শেষ পর্যন্ত নর্থ ক্যারোলাইনা, সাউথ ক্যারোলাইনা, টেক্সাস এবং ওহাইও—এই চার অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পরাজিত করে সেই লক্ষ্য অর্জন করে দলটি। নর্থ ক্যারোলাইনায় সাবেক গভর্নর রয় কুপার রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে হারিয়ে জয় পান। অন্যদিকে সাউথ ক্যারোলাইনায় শিশু চিকিৎসক অ্যানি অ্যান্ড্রুজ পরাজিত করেন রিপাবলিকান ডারলিন গ্রাহামকে। নির্বাচনী প্রচারে অক্টোবরজুড়ে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছিলেন তিনি।
বাকি দুই অঙ্গরাজ্যের মধ্যে টেক্সাসে প্রতিপক্ষ অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে হারিয়ে জয় তুলে নেন ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জেমস টালারিকো। এছাড়া ওহাইওতে জয়লাভ করেন সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই নতুন ফলাফলের ওপর ভর করে আগামী ২০২৭ সালে সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমারের পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অক্টোবরের প্রচারণা জুড়ে ট্রাম্প রিপাবলিকানদের পক্ষে জোর তৎপরতা চালালেও তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়া দলের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। সিনেটের নতুন রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে ডেমোক্র্যাটরা এখন ট্রাম্প প্রশাসনের মূল সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক ও বিচার বিভাগের বড় বড় নিয়োগ এবং নতুন আইন পাসের ক্ষেত্রে কার্যকর তদারকি ও প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা হাতে পাচ্ছে।




