Eng
আইন-আদালত, জাতীয়, ঢাকা, লিড নিউজ, সাতক্ষীরা

মরিয়মের বাবার আপস, নজরুলের জামিনে আপত্তি নেই

প্রকাশিত: , ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৪:৫১ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় নতুন মোড় এসেছে। মামলার বাদী ও মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আদালতে জানিয়েছেন, আসামিদের সঙ্গে তিনি আপস মীমাংসা করেছেন। গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম জামিনে মুক্তি পেলে তার কোনো আপত্তি নেই বলেও আদালতকে জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালতে উপস্থিত হয়ে মরিয়মের বাবা এ বিষয়ে হলফনামা দেন। পরে আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এ সময় মামলাটি নিয়ে আদালতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।
মামলাটি করা হয়েছিল মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায়। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকার ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর পরদিন তার বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।
মামলার পর গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গাজী নজরুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে হাজির করা হলে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। একই মামলায় তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামও কারাগারে ছিলেন।
এর আগে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আদালতে জানানো হয়েছিল, ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা একটি শয়নকক্ষে থাকতেন। মরিয়মকে কখনো কখনো ওই শয়নকক্ষের পাশের বারান্দায় রাত কাটাতে হতো বলে তদন্তে পাওয়া তথ্যের কথা আদালতকে জানানো হয়। তবে এসব তথ্য তদন্তের অংশ এবং মামলার অভিযোগের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত নয়।
মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় শুরু থেকেই অভিযোগ ও তদন্তের নানা তথ্য সামনে এসেছে। এখন বাদীপক্ষের আপসের অবস্থান মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় কী প্রভাব ফেলে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আদালতে দেওয়া হলফনামা ও জবানবন্দির পর আসামিদের জামিনের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালতের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে।
মামলায় অভিযোগ আনা হলেও আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো আসামিকে দোষী হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং সংশ্লিষ্টদের দায় নির্ধারিত হওয়ার কথা।