
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, দলটি বর্তমানে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং তাদের রাজনৈতিক ভিত্তি আগের মতো নেই। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থীর নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে ডাকসুর উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সাদিক কায়েম।
সংবাদ সম্মেলনে সাদিক কায়েম বলেন, বিএনপি কয়েক বছর দেশ পরিচালনার সুযোগ পাওয়ার পরও বর্তমানে দলটির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দলটি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতির কারণে বিএনপির নেতাদের আচরণেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপির নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতা তৈরি হয়েছে এবং দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের হাতে আগের মতো নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে এসব বক্তব্য সাদিক কায়েমের রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
বিসিএসের নিয়োগ প্রসঙ্গেও সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন ডাকসু ভিপি। তার দাবি, সংবিধানের ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদে সরকারি চাকরিতে সমান সুযোগের যে নীতি রয়েছে, তা উপেক্ষা করে রাজনৈতিক বিবেচনায় কিছু শিক্ষার্থীকে চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে যোগ্যতা ও মেধাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
এ সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সার সংকট এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। এসব সমস্যার জন্য সরকারের ব্যর্থতা ও অযোগ্যতাকে দায়ী করেন ডাকসু ভিপি।
সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খানও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিসিএস ও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক বিবেচনা প্রভাব ফেলছে। তার দাবি, পরীক্ষায় ভালো ফল করা এবং নিজ নিজ বিভাগে শীর্ষস্থান অর্জন করা প্রার্থীদের মধ্য থেকেও রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কেউ কেউ নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।
মহিউদ্দিন খান বলেন, চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, প্রার্থীর মেধা ও যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
প্রসঙ্গত, ৪৯তম বিসিএস বিশেষ পরীক্ষার চূড়ান্ত গেজেটে ৬৬৮ জন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর মধ্যে ৬১১ জনের নিয়োগের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অর্জনকারীসহ ৫৭ জনের নাম চূড়ান্ত গেজেটে না থাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন মহল থেকে ব্যাখ্যা ও স্পষ্টতার দাবি উঠেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জোবায়ের, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহসহ বিভিন্ন সম্পাদক, সদস্য এবং হল সংসদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




