Eng
জাতীয়, ঢাকা, লিড নিউজ

স্লিপার বাস চলাচলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা

প্রকাশিত: , ৩ অক্টোবর ২০২৬ | ২:২১ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

স্লিপার বাসের নিরাপত্তা ও কাঠামোগত মান নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত নীতিমালায় এসব বাস তৈরিতে পুরোনো বা ব্যবহৃত চেসিসের পরিবর্তে সম্পূর্ণ নতুন চেসিস ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পেছনে টেনডেম এক্সেল, সব এক্সেলে এয়ার সাসপেনশন বা উন্নত প্রযুক্তির সাসপেনশন এবং এবিএসসহ আধুনিক ব্রেকিং ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সম্প্রতি ‘স্লিপার বাস গাইডলাইন/নীতিমালা, ২০২৬’ নামে একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৈরি ওই খসড়াটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে স্লিপার বাস নিয়ে কয়েকটি দুর্ঘটনার পর এ ধরনের যানবাহনের নির্মাণ, কাঠামো ও সড়কে চলাচল নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
খসড়ায় স্লিপার বাস বলতে এমন যানকে বোঝানো হয়েছে, যেখানে চালক ছাড়া অন্তত ১৩ জন যাত্রী শুয়ে বা আরাম করে ভ্রমণ করতে পারেন। এতে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশে ৮০০টির বেশি স্লিপার বাস চলাচল করছে। তবে এসব বাস তৈরির জন্য দেশে বিশেষায়িত বডি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান নেই এবং সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় স্লিপার বাস আমদানির নজিরও নেই বলে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি স্লিপার বাসে সম্পূর্ণ নতুন চেসিস ব্যবহার করতে হবে। বাসের পেছনে টেনডেম এক্সেল এবং সব এক্সেলে এয়ার সাসপেনশন বা সমমানের উন্নত প্রযুক্তি রাখার কথা বলা হয়েছে। ব্রেকিং ব্যবস্থায় অ্যান্টি-লক ব্রেকিং সিস্টেম (এবিএস) অথবা আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের শর্তও থাকছে।
বাসের সামগ্রিক ওজন ও উচ্চতার ক্ষেত্রেও সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। যাত্রী ও মালামালসহ একটি বাসের সর্বোচ্চ অনুমোদিত ওজন ২১ টন এবং উচ্চতা ৪ দশমিক ২৫ মিটারের মধ্যে রাখার কথা বলা হয়েছে। স্থিতিশীলতা পরীক্ষার সময় প্রতিটি বার্থে নির্দিষ্ট পরিমাণ ওজন প্রয়োগ করে বাসের ভারসাম্য যাচাই করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
যাত্রীদের শোয়ার জায়গা বা বার্থের আকার নিয়েও নির্দিষ্ট মানদণ্ড প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিটি বার্থের দৈর্ঘ্য কমপক্ষে ১ হাজার ৮০০ মিলিমিটার রাখার কথা বলা হয়েছে। এক সারিতে তিনটি বার্থ থাকলে প্রতিটির প্রস্থ কমপক্ষে ৬০০ মিলিমিটার এবং দুইটি বার্থ থাকলে প্রস্থ ৬৫০ থেকে ৭৫০ মিলিমিটারের মধ্যে রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
প্রতিটি বার্থে সর্বোচ্চ ৩০০ কেজি ওজন বহনের সক্ষমতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি দুই পাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী রাখার প্রস্তাব রয়েছে। উপরের বার্থে ওঠার জন্য হাতলযুক্ত সিঁড়ি, যাত্রীদের সুবিধায় কলিং লাইট ও কলবেল, রিডিং লাইট, হেডরেস্ট, আর্মরেস্ট এবং খাবার রাখার জন্য ভাঁজযোগ্য টেবিল রাখার কথাও খসড়ায় রয়েছে।
অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টিও প্রস্তাবিত নীতিমালায় গুরুত্ব পেয়েছে। প্রতিটি বাসে প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার এবং অন্তত তিনটি স্মোক ডিটেক্টর রাখার কথা বলা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীদের দ্রুত বের করে আনার জন্য নির্দিষ্ট দরজা, নিচের ও ওপরের ডেকে জরুরি জানালা এবং সেফটি গ্লাস ভাঙার জন্য বিশেষ হাতুড়ি রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া সার্ভিস দরজার এয়ারলক জরুরি প্রয়োজনে খোলার জন্য ম্যানুয়াল ভালভ রাখার কথাও বলা হয়েছে। বার্থের প্যাডে অগ্নিপ্রতিরোধক ফোম ব্যবহার এবং আসনের কভার, পর্দা, প্লাইউড ও ফ্লোরিংসহ বাসের ভেতরের বিভিন্ন উপকরণে নির্ধারিত দাহ্যতা মান অনুসরণের শর্ত প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে এসব শর্ত এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই স্লিপার বাস নির্মাণ ও চলাচলের ক্ষেত্রে কোন নিয়মগুলো কার্যকর হবে, তা স্পষ্ট হবে। প্রস্তাবিত নীতিমালার মূল লক্ষ্য হিসেবে বাসের কাঠামোগত নিরাপত্তা, যাত্রীসুবিধা, স্থিতিশীলতা ও জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদে বের হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।