
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
ময়মনসিংহে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত সাতজনের দাফন জামালপুরে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে জামালপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিজ নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক ও সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। স্বজনদের আহাজারি ও শোকের মধ্য দিয়ে শেষ বিদায় জানানো হয় নিহতদের।
শুক্রবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহতদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর গভীর রাতে মরদেহগুলো জামালপুরে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে আসে শোকের আবহ।
নিহত মোফাজ্জাল হোসেন লেবু (৫০) ও তার মা রাশিদা বেগমের (৭০) জানাজা অনুষ্ঠিত হয় জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামে। একই ইউনিয়নের গোড়ারকান্দা গ্রামে জানাজা হয় মোফাজ্জাল হোসেনের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে মর্জিনা বেগম (২৫) এবং তার পাঁচ বছর বয়সী শিশু মিনানের।
অন্যদিকে দুর্ঘটনায় নিহত সিএনজি চালক সুজন আলীর (৪৪) মরদেহ শুক্রবার রাতে নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। পরে গোবিন্দবাড়ি গ্রামে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
সদর উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের বাদেচান্দি গ্রামে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় নিহত আক্রাম আলী (৫১) ও তার স্ত্রী মমতা বেগমের (৩৯)। পরে তাদের স্থানীয় সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যসহ সাতজনের মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোক নেমে এসেছে। স্বজনদের পাশাপাশি প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও শেষ বিদায়ে অংশ নেন।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে মা, মেয়ে ও নাতিকে সঙ্গে নিয়ে গাজীপুর যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন রাজমিস্ত্রি মোফাজ্জাল হোসেন লেবু। পরিকল্পনা অনুযায়ী জামালপুর থেকে সিএনজিতে ময়মনসিংহ যাওয়ার পর সেখান থেকে বাসে করে গাজীপুরে যাওয়ার কথা ছিল তাদের।
পথে ময়মনসিংহের আকুয়া বাইপাস এলাকায় জামালপুরগামী একটি বাসের সঙ্গে সিএনজিটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের চার সদস্য ও সিএনজি চালকসহ সাতজন মারা যান।
দুর্ঘটনার পর বাসটির চালক গাড়িটি ঘটনাস্থলে রেখে চলে যান বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় চালকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর ঢাকা-জামালপুর রুটে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
একটি সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যসহ সাতজনের প্রাণহানির ঘটনায় জামালপুরের ওই এলাকাগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনেরা দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন।



