Eng
জাতীয়, ঢাকা, লিড নিউজ

জুতার ভেতর সাড়ে ৯ কেজি স্বর্ণ, আটক বিমানকর্মী

প্রকাশিত: , ৪ অক্টোবর ২০২৬ | ২:৪৯ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জুতার ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা প্রায় সাড়ে ৯ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় দুই বিমানকর্মীকে আটক করা হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে দুবাই থেকে ঢাকায় আসা এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটের বিমানকর্মীদের কাছ থেকে এসব স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
আটক দুই বিমানকর্মী হলেন মো. মানিক মিয়া ও মো. মিজানুর রহমান। তারা দুজনই এয়ারক্রাফট টেকনিক্যাল হেলপার (এটিএইচ) হিসেবে কর্মরত বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। তাদের কাছ থেকে মোট ৮০টি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইনসের ইকে ৫৮২ ফ্লাইটটি শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ফ্লাইটটিকে ঘিরে সতর্ক অবস্থান নেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
ফ্লাইট অবতরণের পর বিমানবন্দরের রানওয়ের ২১ নম্বর গেটসংলগ্ন ৪ নম্বর বোর্ডিং ব্রিজের নিচের অ্যাপ্রোন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় দুই বিমানকর্মীর জুতার ভেতরে লুকিয়ে রাখা স্বর্ণবারগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়। পরে সেগুলো উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
উদ্ধার হওয়া ৮০টি স্বর্ণবারের মোট ওজন ৯ দশমিক ৩৪ কেজি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, এসব স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। প্রতিটি স্বর্ণবারের ওজন প্রায় ১১৭ গ্রাম বলে জানানো হয়েছে।
জুতার ভেতরে স্বর্ণ লুকিয়ে বিমানবন্দর দিয়ে তা নিয়ে আসার ঘটনায় আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা স্বর্ণের সম্ভাব্য গন্তব্য এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
এর আগে একই দিন সকালে বিমানকর্মীদের কাছ থেকে স্বর্ণ উদ্ধারের বিষয়টি জানানো হলেও তখন তাদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের পরিচয় প্রকাশ করে।
বিমানবন্দরে যাত্রীদের পাশাপাশি বিমানকর্মীদের মাধ্যমেও স্বর্ণ পাচারের চেষ্টা ঠেকাতে নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের দায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা যায় না। ঘটনায় জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্রের সংশ্লিষ্টতা থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা স্পষ্ট হতে পারে।