
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
সুন্দরবনের কাছাকাছি এলাকায় অনুমোদন ছাড়া গড়ে ওঠা ১৮টি রিসোর্টের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার জন্য পৃথক সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
খুলনা জেলা কার্যালয়ের আওতাধীন সুন্দরবনসংলগ্ন ঢাংমারী, কৈলাসগঞ্জ ও বাণিশান্তা এলাকায় এসব রিসোর্ট অবস্থিত। পরিবেশ আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুসারে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নির্দেশনার আওতায় থাকা রিসোর্টগুলো হলো—অরণ্যছায়া, অরণ্যবাড়ী, কেওড়া বন, মায়াবন, গহন, দ্য ফরেস্ট রিট্রিট, নিকুঞ্জ ভ্যালি, লা সিলভা কটেজ, বনবিবি, সুন্দরী, ইরাবতী, বনমালী, গোলকানন, পিয়ালী, ম্যানগ্রোভ, জঙ্গলবাড়ী, বনবাস ও বনলতা ইকো কটেজ।
পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ রিসোর্টগুলোর মালিকদের লিখিতভাবে এ নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
এর মধ্যে আগে থেকে থাকা ১০টি রিসোর্টকে ৩০ দিনের মধ্যে তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনুমোদন ছাড়া রিসোর্ট নির্মাণের অভিযোগে এর আগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। পরে সংশ্লিষ্ট মালিকরা নোটিশের জবাবের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য আবেদন করেন।
তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে না পারায় ওই আবেদনগুলো গ্রহণ করা হয়নি। গত ৩০ সেপ্টেম্বর এসব আবেদন বাতিল করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যক্রম বন্ধ এবং স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, তুলনামূলকভাবে নতুন করে গড়ে ওঠা আরও আটটি রিসোর্টকে নির্ধারিত স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য আগে সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই সময়ের মধ্যে স্থানান্তরের বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় তাদের কার্যক্রম বন্ধ এবং ১৫ দিনের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং নিয়মিত মামলা করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নিলে বিষয়টি আরও কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার দিকে যেতে পারে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, খুলনা জেলা কার্যালয়ের আওতাধীন এলাকায় থাকা রিসোর্টগুলোর বিরুদ্ধেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সুন্দরবনের চিলা, বৈদ্যমারী ও চাঁদপাই এলাকার বিষয়টি বাগেরহাট জেলার আওতাধীন হওয়ায় ওই এলাকার রিসোর্টগুলোর তথ্য এই কার্যক্রমের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়।
সুন্দরবনের আশপাশে পর্যটনকেন্দ্রিক স্থাপনা গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে পরিবেশগত অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান মেনে চলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অনুমোদনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় এসব রিসোর্টের বিরুদ্ধে বর্তমান নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে নির্দেশনার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে।




