Eng
কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, জাতীয়, লিড নিউজ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাহাড়ে দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: , ৮ অক্টোবর ২০২৬ | ৪:৩৩ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নোয়াখালীপাড়া ও রঙ্গিখালী পাহাড়ি এলাকায় এসব ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সেনা ক্যাম্প স্থাপনের ফলে ওই এলাকাগুলোতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ১০ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের অধীনে দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পসংলগ্ন এসব পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত অপহরণের ঘটনা ঘটে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতর ও আশপাশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে বিভিন্ন বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, মাদক, অস্ত্র, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ মোকাবিলায় যৌথ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এসব কার্যক্রমে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) একজন ডিআইজি নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে।
সীমান্ত বা যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো জরুরি অবস্থা তৈরি হলে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থাও নির্ধারিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের অধীনে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা এসওপি রয়েছে বলে জানান তিনি।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, মাদক কারবার, অনলাইন জুয়া, মানবপাচার এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। এর পাশাপাশি অন্যান্য সাধারণ অপরাধও ঘটছে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও এপিবিএন নিয়মিতভাবে কাজ করছে।
এপিবিএনের আইনগত কাঠামোয় সম্প্রতি তদন্তের সুযোগ রাখা হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার তথ্য অনুযায়ী, বাহিনীটিতে সাব-ইন্সপেক্টর পর্যায়ের প্রায় ৪০০ কর্মকর্তা রয়েছেন। তদন্তের ক্ষমতা পাওয়ার ফলে ক্যাম্প এলাকায় সংঘটিত অপরাধের তদন্তে তাদের ভূমিকা আরও বাড়তে পারে।
ক্যাম্পের বাইরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদারের পরিকল্পনা রয়েছে। নষ্ট হয়ে যাওয়া ফেন্সিং বা কাঁটাতার পুনর্নির্মাণ, সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে আলোর ব্যবস্থা, বিভিন্ন স্থানে সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন এবং কন্ট্রোল টাওয়ার ও ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়টি আলাদা উচ্চপর্যায়ের কমিটি দেখছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং জাতিসংঘের নেতৃত্বে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের জন্য পৃথক কারাগার নির্মাণের কোনো প্রস্তাব তার জানা নেই বলে উল্লেখ করেন।
বৈঠকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিজিবি, কোস্ট গার্ড এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এদিকে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর নিয়েও বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সরকারি জমি ও পাহাড়কে সুশাসনের আওতায় আনতে সমন্বিতভাবে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে সারদার আদলে একটি পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠার জন্য জমি খোঁজা হচ্ছে।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের জন্য ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। বায়েজিদ লিংক রোডের পাশে কারাগারটি স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরে অবৈধভাবে বসতি স্থাপনকারীদের পুনর্বাসন এবং বিদ্যমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা নিয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও এপিবিএনের উপস্থিতি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর জন্য স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।