
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক সদস্যসচিব মাহদী হাসানকে বিদেশ যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে তিনি নিজেই গণমাধ্যমের কাছে এ বিষয়ে কথা বলেন।
মাহদীর ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে ইতিহাদ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তার জামাইকা যাওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত ফ্লাইটটি রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে ছাড়ার কথা ছিল। তবে বিমানবন্দরে যাওয়ার পর তাকে দেশ ছাড়তে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোতে তিনি জামিনে রয়েছেন। এরপরও বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে তাকে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। পুলিশ তাকে দেশের বাইরে যাওয়ার আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বলেও দাবি করেন মাহদী।
তবে বিমানবন্দরে ঠিক কী কারণে তাকে আটকে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিমানবন্দর থানার ডিউটি অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে কোনো তথ্য জানেন না বলে জানান।
ঘটনার পর মাহদী বিমানবন্দর এলাকা থেকে চলে যান বলে জানা গেছে। বিদেশযাত্রা নিয়ে তার দাবি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্যের মধ্যে এ মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্যের ঘাটতি রয়েছে।
বিদেশ ভ্রমণে আদালতের অনুমতি প্রয়োজন কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট মামলার ধরন, আদালতের আদেশ এবং ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে কি না—এসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করতে পারে। ফলে মাহদীকে কেন দেশত্যাগে বাধা দেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে মাহদী হাসান আগে থেকেই রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে পরিচিত। তবে বৃহস্পতিবারের ঘটনায় তাকে বিমানবন্দরে ঠিক কোন সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনার ভিত্তিতে বিদেশ যেতে দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবি বা বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে মাহদীর বক্তব্য এবং বিমানবন্দর থানার ডিউটি কর্মকর্তার বক্তব্য—দুই পক্ষের তথ্য সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার কারণও স্পষ্ট হবে।




