
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে হাইতকান্দি ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মো. রাশেদকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী এলাকায় এক হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে মাদক মামলার অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক আবু সাঈদের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাশেদকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি হাসান মুহাম্মদ জসিম ও সাধারণ সম্পাদক এস এ মুরাদ চৌধুরী এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, বহিষ্কৃত রাশেদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়ভার দল গ্রহণ করবে না। একই সঙ্গে যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে বহিষ্কারের বিজ্ঞপ্তিতে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়নি। ফলে ঠিক কোন অভিযোগের ভিত্তিতে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি থেকে সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী এলাকায় এক হাজার পিস ইয়াবাসহ রাশেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এস এ মুরাদ চৌধুরী জানান, দলীয় পদে থেকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুযোগ নেই। রাশেদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকায় তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ বহিষ্কার করা হয়েছে।
রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক পদে থাকা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট দল নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে। এ ক্ষেত্রেও যুবদলের জেলা পর্যায়ের নেতৃত্ব রাশেদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত এবং ফৌজদারি মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া পৃথক বিষয়। গ্রেপ্তার বা মামলা হওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। মামলার চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া না যাওয়ায় এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।




