Eng
অপরাধ, জাতীয়, ঢাকা, নরসিংদী, লিড নিউজ

নরনিংদীতে বাবার হাতে ছেলে খু/ন নেপথ্যে মা/দ/ক

প্রকাশিত: , ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ৫:৩৬ অপরাহ্ণ




সাদ্দাম উদ্দিন রাজ, নরসিংদী:

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় তারেক (২৮) নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বাবা অলিউর রহমান ও পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে। মাদকের টাকার জন্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের বাহেরচর মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহত তারেকের মাথার পেছনে ও ডান কানের নিচে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডে পরিবারের কারা কীভাবে জড়িত ছিলেন, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তারেক মালয়েশিয়ায় প্রবাসী ছিলেন। সেখানে অবস্থানকালে মাদক সেবনের অভিযোগে তাঁকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। দেশে ফেরার পরও তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ অনুযায়ী, মাদক কেনার জন্য টাকা চেয়ে তারেক প্রায়ই তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধর করতেন। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। তবে তাঁর মাদকাসক্তি এবং পরিবারের সঙ্গে বিরোধের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতে মাদকের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে তারেক বাড়িতে ভাঙচুর করেন। একপর্যায়ে তাঁর বাবা অলিউর রহমান তাঁকে হাত-পা বেঁধে বাড়ির পেছনে অবস্থিত একটি গোয়ালঘরে নিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে মারধরের একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তারেকের মাথা, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলে জানা গেছে। এসব আঘাতের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
ঘটনার পর থেকে তারেকের বাবা অলিউর রহমান পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও তাঁদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কারও অপরাধমূলক দায় আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। নিহতের মাথার পেছনে ও ডান কানের নিচে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ওসি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে মাদককে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ, হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত এবং কী পরিস্থিতিতে যুবকের মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে, মাদকাসক্তিকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের এমন পরিণতি স্থানীয়ভাবে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তবে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণে পুলিশের তদন্ত এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য ও দায়ীদের ভূমিকা স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।