
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলায় নুডলস খাওয়ার পর একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক দম্পতি ও তাঁদের তিন শিশু সন্তান। প্রাথমিক তদন্তে খাদ্যে বিষক্রিয়ার আশঙ্কা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে পুলিশ, খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগ ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন ৩৭ বছর বয়সী মাহেশ, তাঁর স্ত্রী ৩৫ বছর বয়সী ললিতা এবং তাঁদের তিন সন্তান—১১ বছর বয়সী লাদ্দু, ৭ বছর বয়সী মিষ্টি ও ৩ বছর বয়সী সক্ষত।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, ঘটনার আগের রাতে পরিবারের সবাই একসঙ্গে নুডলস খেয়েছিলেন। এরপর তাঁরা ঘুমাতে যান। পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর বিষয়টি সামনে আসে। তবে খাবার খাওয়ার সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যরা আগের রাতে আনুমানিক ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে খাবার গ্রহণ করেন। এরপর তাঁরা ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন সকালে পরিবারের তিন শিশুর একজনের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে শিশুটি ঘুম থেকে না ওঠায় পরিবারের সদস্যদের নজরে বিষয়টি আসে। পরে একে একে পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যুর খবর জানা যায়।
একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় পুলিশ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে অ্যাম্বুলেন্সের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের একটি দলও যায়। প্রাথমিক পর্যায়ের তদন্ত শেষে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর থেকে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। পরিবারের খাওয়া খাবারে ক্ষতিকর কোনো পদার্থ ছিল কি না, তা পরীক্ষা করে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খাবার ছাড়াও অন্য কোনো কারণে তাঁদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ধীরেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যদের খাওয়া খাবারে বিষাক্ত কোনো উপাদান ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
এ ঘটনায় খাদ্যে বিষক্রিয়ার আশঙ্কা থাকলেও পরীক্ষার ফলাফল ও তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের এমন মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে কী কারণে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তা জানতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।



