
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র আত্মরক্ষার প্রয়োজনে উঁচিয়ে ধরেছিলেন বলে দাবি করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তাঁর ভাষ্য, অভিযানের সময় নিরাপত্তাঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা সাময়িকভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন ইশরাক। তাঁর দাবি, গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি অস্থায়ী আস্তানার কাছে পৌঁছানোর পর ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। এ সময় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা থেকে আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে তাঁরা গাড়ি থেকে নেমে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে নিরাপত্তাঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল। মাদক কারবারিরা ভবনের ছাদ থেকে গুলি চালাতে পারে, এমন আশঙ্কার কথাও তাঁকে জানানো হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। তবে এসব পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর বক্তব্যের স্বাধীন সত্যতা যাচাইয়ের তথ্য এখানে পাওয়া যায়নি।
অস্ত্র প্রদর্শনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ইশরাক বলেন, ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের দেওয়া লাইসেন্সের আওতাভুক্ত। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি মোকাবিলায় অস্ত্রটি অল্প সময়ের জন্য প্রদর্শন করা হয়েছিল এবং সম্ভাব্য বিপদ কেটে যাওয়ার পর তা যথাস্থানে রাখা হয়।
মাদকবিরোধী অভিযানে ছয়জন আটক হওয়ার দাবি
বিবৃতিতে ইশরাক জানান, গেন্ডারিয়ায় পৌঁছানোর পরপরই স্থানীয় থানার পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় সন্দেহভাজন কয়েকটি মাদকের আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। তাঁর দাবি, অভিযানে চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এসব স্থান থেকে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদক, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাই করা কয়েকটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদক কারবারে জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করে জব্দ করা আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। উদ্ধার ও আটকের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।
এলাকায় মাদক বিস্তার নিয়ে উদ্বেগের কথা
ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানান ইশরাক।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে এলাকাটি মাদক পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুটে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত জুনে মাদক-সংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন নাগরিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর তিনি এলাকা পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা করেন বলেও উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রীর দাবি, মাদকের আস্তানার কাছাকাছি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং জনবলসংকট নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আধাসরকারি পত্র দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে জানান তিনি।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য
অস্ত্র হাতে তাঁর উপস্থিতির ছবি ও সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমের সমালোচনা করেন ইশরাক। তাঁর অভিযোগ, কিছু প্রতিবেদনে অভিযানের পুরো প্রেক্ষাপট তুলে না ধরে অস্ত্র প্রদর্শনের দৃশ্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে মাদকবিরোধী অভিযানের অন্যান্য দিক এবং পুলিশের ভূমিকা আড়ালে পড়ে গেছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি গণমাধ্যমকে সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট তুলে ধরার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
তবে অস্ত্র প্রদর্শনের পরিস্থিতি, অভিযানে জব্দ করা আলামত এবং আটকের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও স্বাধীন যাচাই ছাড়া বিবৃতিতে উত্থাপিত সব দাবিকে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। ঘটনাটি ঘিরে অস্ত্র ব্যবহারের যৌক্তিকতা ও আইনগত দিক নিয়ে বিস্তারিত মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।




