Eng
অর্থনীতি, জাতীয়, ঢাকা, লিড নিউজ

ইউরোপের ডেনিম বাজারে শীর্ষে বাংলাদেশ, আগস্টে রপ্তানি বাড়ল

প্রকাশিত: , ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:৩৭ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ডেনিম বাজারে শীর্ষ সরবরাহকারীর অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। তবে ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানির মূল্য কমেছে। এর মধ্যেও আগস্ট মাসে রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ওই মাসে বাংলাদেশ থেকে ইইউতে ডেনিম রপ্তানির মূল্য বেড়েছে ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ। এতে দীর্ঘ সময়ের নেতিবাচক প্রবণতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইইউর দেশগুলো মোট ২৯৫ কোটি ৬২ লাখ ১০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময়ে এই আমদানির পরিমাণ ছিল ৩০৯ কোটি ২২ লাখ ৭০ হাজার ইউরো। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে আমদানি কমেছে ৪ দশমিক ৪০ শতাংশ।

তবে আগস্টে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। মাসটিতে ইইউর মোট ডেনিম আমদানি দাঁড়িয়েছে ৪৩ কোটি ১৬ লাখ ১৬ হাজার ইউরোতে, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১১ দশমিক ২৩ শতাংশ বেশি। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ডেনিম আমদানির মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৪০ লাখ ৮০ হাজার ইউরোতে।

শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ

ইইউর ডেনিম সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম। বছরের প্রথম আট মাসে বাংলাদেশ থেকে ৮৬ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম আমদানি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এই সময়ে ইইউর মোট ডেনিম আমদানিতে বাংলাদেশের অংশ ছিল ২৯ দশমিক ৪০ শতাংশ।

তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান। দেশটি থেকে আমদানির পরিমাণ ছিল ৫২ কোটি ৫৪ লাখ ৯০ হাজার ইউরো। তৃতীয় অবস্থানে থাকা তুরস্ক থেকে আমদানি হয়েছে ৪৩ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার ইউরোর ডেনিম।

তবে শীর্ষস্থান ধরে রাখলেও বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে কিছুটা চাপ রয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানির মূল্য কমেছে ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ। অন্যদিকে, ইইউর মোট ডেনিম আমদানি কমেছে ৪ দশমিক ৪০ শতাংশ। ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি হ্রাসের হার বাজারের সামগ্রিক পতনের চেয়ে বেশি।

এ সময়ে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্বও কমেছে। গত বছরের প্রথম আট মাসে ইইউর ডেনিম আমদানিতে বাংলাদেশের অংশ ছিল ২৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, যা চলতি বছর কমে ২৯ দশমিক ৪০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

আগস্টের প্রবৃদ্ধিতে ফিরেছে ইতিবাচক ইঙ্গিত

আট মাসের সামগ্রিক হিসাবে রপ্তানি কমলেও আগস্টের পরিসংখ্যান বাংলাদেশের জন্য আশাব্যঞ্জক। ওই মাসে বাংলাদেশের ডেনিম সরবরাহ বেড়েছে ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ, যেখানে ইইউর সামগ্রিক আমদানি বৃদ্ধির হার ছিল ১১ দশমিক ২৩ শতাংশ।

আগস্টে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট ডেনিম আমদানিতে বাংলাদেশের অংশ বেড়ে ৩১ দশমিক ১৭ শতাংশ হয়েছে। গত বছরের একই মাসে এই হার ছিল ৩০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। পাশাপাশি মাসটিতে ইইউর ডেনিম আমদানিতে মোট যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে, তার প্রায় ৩৫ শতাংশ এসেছে বাংলাদেশ থেকে আমদানি বৃদ্ধির কারণে।

আগস্টের এই অগ্রগতির প্রভাব আট মাসের সামগ্রিক হিসাবেও দেখা যাচ্ছে। জুলাই শেষে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানির মূল্য কমার হার ছিল ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ। আগস্টের প্রবৃদ্ধির পর আট মাস শেষে সেই পতন কমে ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশে নেমেছে।

প্রতিযোগী দেশগুলোর অবস্থানে পরিবর্তন

ইউরোপের ডেনিম বাজারে বিভিন্ন সরবরাহকারী দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতার চিত্রেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে তুরস্ক থেকে আমদানি কমে যাওয়ায় বাজারের সামগ্রিক আমদানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তুরস্ক থেকে ডেনিম আমদানি কমেছে ২১ দশমিক ০৮ শতাংশ, যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ১১ কোটি ৭০ লাখ ইউরো। এ ছাড়া মরক্কো থেকে আমদানি কমেছে ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ, পাকিস্তান থেকে ৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ, কম্বোডিয়া থেকে ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং তিউনিসিয়া থেকে ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

অন্যদিকে কয়েকটি সরবরাহকারী দেশ ইউরোপের বাজারে নিজেদের অবস্থান জোরদার করেছে। মিসর থেকে ডেনিম আমদানি বেড়েছে ৩১ দশমিক ৪৬ শতাংশ বা প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ ইউরো। চীন থেকে বেড়েছে ১৭ দশমিক ৭০ শতাংশ বা প্রায় ৩ কোটি ইউরো। ভিয়েতনাম থেকে আমদানি বৃদ্ধির হার ছিল ৪৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যার পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ইউরো।

তুরস্কের সরবরাহ কমলেও সেই সুযোগের পুরোটা বাংলাদেশ কাজে লাগাতে পারেনি। বরং মিসর, চীন ও ভিয়েতনামের মতো দেশও বাজারে নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে। এতে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বাজার ধরে রাখতে বাড়াতে হবে সক্ষমতা

ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো শক্তিশালী হলেও ভবিষ্যতে এই অবস্থান ধরে রাখতে একাধিক বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক মূল্য ও উৎপাদন সক্ষমতার পাশাপাশি দ্রুত পণ্য সরবরাহ, ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী নকশা তৈরি এবং অর্ডার পূরণে নমনীয়তা বাড়ানো প্রয়োজন।

বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে উৎপাদন পরিকল্পনা ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে পারলে নতুন অর্ডার পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রতিযোগী দেশগুলোর অগ্রগতিও বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের বিবেচনায় রাখতে হবে।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেনিম বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি মূল্য কমলেও শীর্ষ সরবরাহকারীর অবস্থান অক্ষুণ্ন রয়েছে। আগস্টের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক বার্তা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে বাজারের অংশীদারত্ব বাড়ানো এবং রপ্তানির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।