
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে দলটির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সমর্থন চাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তাঁর দাবি, একাত্তরে দলটির ভূমিকার কারণেই বর্তমানে আওয়ামী লীগের সমর্থন প্রত্যাশা করছে জামায়াত। একই সঙ্গে বিরোধী দলের বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগও করেন তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ফকিরাপুলে ডেঙ্গু বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে আয়োজিত লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন রিজভী। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
বক্তব্যে রিজভী বলেন, বিরোধী দল ‘চকলেট প্রাপ্তি’র কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তাঁর ভাষ্য, বিরোধী দল হিসেবে তারা সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে। মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে প্রকৃত সত্য আড়াল করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।
রাজনৈতিক বক্তব্যে তিনি বিরোধী দলের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির কোনো চুক্তির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার অভিযোগ থাকলে সেই চুক্তির নথি প্রকাশ করার আহ্বান জানান রিজভী। তাঁর বক্তব্য, বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের সঙ্গে চুক্তি করে ক্ষমতায় এসে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট চুক্তিপত্র জনসমক্ষে আনা উচিত।
একই প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্পষ্ট। তবে এসব বিষয়ে বক্তব্যের পক্ষে বিস্তারিত কোনো নথি বা প্রমাণ কর্মসূচিতে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। ফলে অভিযোগগুলোকে রিজভীর রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
বিশ্ব খাদ্য সূচকের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। তিনি বলেন, এ সূচকে বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্যের সময় তিনি সূচকটির নির্দিষ্ট সংস্করণ, অবস্থান বা পরিসংখ্যান বিস্তারিত উল্লেখ করেননি।
রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি কর্মসূচিটির মূল উদ্দেশ্য ছিল ডেঙ্গু নিয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো। এ সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন রুহুল কবির রিজভী। ডেঙ্গুর ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার পাশাপাশি জমে থাকা পানি অপসারণ, বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং মশার বংশবিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে এসব বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার সুযোগ তৈরি হয়।
এদিকে রিজভীর বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে তাঁর অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে পাওয়া তথ্যের মধ্যে নেই। তাই বক্তব্যে উত্থাপিত অভিযোগ ও রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি দাবিকে পৃথকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে দলগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক, অতীত ভূমিকা ও বর্তমান অবস্থান নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বক্তব্যের পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের অবস্থান বিবেচনা করা জরুরি।




