
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদরাসার এক শিক্ষককে থাপ্পড় দেওয়া, মারধর ও প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় করা মামলার আসামি শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন বলে জানিয়েছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে সাংবাদিকদের পাঠানো এক খুদে বার্তায় তিনি নিজেই দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তবে তিনি বর্তমানে কোন দেশে রয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি।
রাত ৮টার দিকে পাঠানো ওই বার্তায় রুমি জানান, তিনি আর বাংলাদেশে নেই। এ ঘটনায় কে কী বলছেন বা করছেন, তা নিয়ে তার কোনো মন্তব্য নেই বলেও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি সবার ভালো থাকার কামনা করেন।
বার্তায় রুমি আরও দাবি করেন, তার প্রকাশ করা ভিডিওর বিভিন্ন অংশ কেটে নিয়ে কিছু সাংবাদিক তা ভিন্নভাবে প্রচার করেছেন। এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় তাকে নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে রুমি বলেন, তিনি আইনের মাধ্যমে সঠিক বিচার চান। পাশাপাশি কারও সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটলে প্রতিবাদ করার আহ্বানও জানান তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত গাজীপুরের টঙ্গীর আওচপাড়া এলাকায় অবস্থিত ক্বারিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসাকে ঘিরে। সাত বছর বয়সী এক ছাত্রীর সঙ্গে যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি আলোচনায় আসে। ওই ছাত্রীকে চুমু দেওয়ার অভিযোগে শিক্ষক মুসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার পরিবারের সদস্যরা।
মামলার পর পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। পরে গত রোববার গাজীপুর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার জামিনের আবেদন করা হলে শুনানি শেষে বিচারক তা নাকচ করেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, মাদরাসায় প্রবেশ, শিক্ষককে মারধর, অফিসকক্ষ ভাঙচুর এবং ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগে পৃথক মামলা করা হয়েছে। গত শুক্রবার এ ঘটনায় মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলমাস হোসেন বাদী হয়ে শাহজালাল রুমির বিরুদ্ধে মামলা করেন।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদরাসা কর্তৃপক্ষের করা মামলায় ওই অভিভাবকসহ মোট ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।
একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদিকে শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, অন্যদিকে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের করা মারধর, ভাঙচুর ও অর্থ লুটের মামলা সামনে এসেছে। দুই পক্ষের অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।




