Eng
আন্তর্জাতিক, লিড নিউজ

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট এখন ডেমোক্র্যাটদের দখলে, চাপে ট্রাম্প প্রশাসন

প্রকাশিত: , ৪ নভেম্বর ২০২৬ | ১১:৩২ অপরাহ্ণ



যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির হাত থেকে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। এই রাজনৈতিক পালাবদলের ফলে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসবে। আগামী দুই বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি নির্ধারণ ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটরা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়ানো ও তদন্ত করার সুযোগও তৈরি হয়েছে দলটির সামনে।

নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটরা বড় জয় পেয়েছেন। বিশেষ করে সাউথ ক্যারোলাইনা ও নর্থ ক্যারোলাইনার ফলাফল ছিল বড় চমক। সাউথ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকান প্রার্থী ডারলাইন গ্রাহামকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। এর মাধ্যমে প্রায় তিন দশক পর অঙ্গরাজ্যটিতে ডেমোক্র্যাটদের জয় নিশ্চিত হলো। ঐতিহাসিক তথ্যানুযায়ী, ১৯৯৮ সালের পর সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি। এই আসনটি দীর্ঘদিন লিন্ডসে গ্রাহামের দখলে ছিল, তবে চলতি বছরের জুলাইয়ে তাঁর মৃত্যুর পর বোন ডারলাইন গ্রাহামকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে, নর্থ ক্যারোলাইনায় জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও সাবেক গভর্নর রয় কুপার। তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে পরাজিত করেছেন। এই আসনে আগে থেকেই রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস পুনর্নির্বাচনে না দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই জয় ডেমোক্র্যাটদের অবস্থানের শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে।

সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন আইন পাস কিংবা বিচারক ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এখন ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতা করা ছাড়া বিকল্প নেই ট্রাম্পের। পাশাপাশি প্রশাসনের যেকোনো কর্মকাণ্ডের ওপর তদন্ত শুরু করার আইনি ক্ষমতাও এখন ডেমোক্র্যাটদের হাতে। নির্বাচনের এমন ফলাফলে ট্রাম্প নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ব্যালটে না থাকায় রিপাবলিকানদের এই পরাজয়ের দায় তাঁর নয়। তবে এই নিয়ন্ত্রণ হারানো যে তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য বড় বাধা হতে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট।