
ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
রাতটা ছিল অন্য দিনের মতোই শান্ত ও স্বাভাবিক। মা-বাবার মাঝখানে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছিল তিন বছরের ছোট্ট মেয়ে তোহা খাতুন। কিন্তু সেই ঘুমই হয়ে গেল তার জীবনের শেষ ঘুম। হঠাৎ এক ভয়াবহ মুহূর্তে নিজের বাবার হাতেই শেষ হয়ে গেল শিশুটি।
রবিবার সকালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার কাইতকাই গ্রামে ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। নিহত তোহা স্থানীয় মুক্তার আলী ও রুমি আক্তার দম্পতির একমাত্র কন্যা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুক্তার আলী দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ভুগছিলেন। পরিবার তাকে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গেলেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। ঘটনার রাতে হঠাৎ তিনি আচরণে অস্বাভাবিক হয়ে ওঠেন।
পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়লে, এক পর্যায়ে মুক্তার আলী ঘুমন্ত মেয়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং ধারালো ছুরি দিয়ে বুকে ও পেটে আঘাত করেন। মুহূর্তেই রক্তে ভেসে যায় শিশুটির দেহ। ছুরিকাঘাতে তোহার শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। হৃদয়বিদারক দৃশ্যটি দেখে চিৎকার করে ওঠেন মা রুমি আক্তার।
চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ—চিকিৎসকরা ঘোষণা দেন, ছোট্ট তোহা আর বেঁচে নেই।
শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। গ্রামের মানুষ কেউ বিশ্বাস করতে পারছে না, একজন পিতা নিজের সন্তানের প্রতি এমন নৃশংস হতে পারে! তোহার মা রুমি আক্তার বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন, কিন্তু কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো গ্রাম।
ঘটনার পর ঘাতক বাবা মুক্তার আলী পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘাটাইল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে।
ঘাটাইল থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) সজল খান বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মুক্তার আলী মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় মেয়েকে হত্যা করেছেন। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।”
এদিকে, স্থানীয়রা বলছেন, মুক্তার আলীকে আগেও অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা গেছে। কয়েকদিন আগেও সে গ্রামের মানুষের সঙ্গে অকারণ ঝগড়া করেছে। কিন্তু কেউ ভাবেননি, এমন ভয়ংকর পরিণতি ঘটতে পারে।
তোহার মৃত্যুর পর গ্রামজুড়ে এখন একটাই আলোচনা—একজন বাবা কীভাবে নিজের সন্তানের ঘাতক হতে পারে? মানুষের মুখে একটাই প্রশ্ন—“মানুষ কি এতটা নিষ্ঠুর হতে পারে?”
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও শিশু অধিকার কর্মীরা ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।