
ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলায় ঘটেছে এক মানবিক ও উদ্বেগজনক ঘটনা। অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ইমরান হোসেনকে ‘ছাত্রলীগ কর্মী’ সন্দেহে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এতে বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না সে। ইমরান ঢালুয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী এবং চিওড়া গ্রামের ডেকোরেটর ব্যবসায়ী ইসহাক মিয়ার ছেলে।
পরিবারের দাবি, ইমরান কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নয়। গত সোমবার রাত ৩টার দিকে বাড়ি থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। পরদিন সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার এজাহারে তাকে ‘ছাত্রলীগ কর্মী’ হিসেবে উল্লেখ করে ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
ইমরানের বাবা ইসহাক মিয়া জানান, “আমার ছেলে শুধুই পড়াশোনা করে। কোনো রাজনীতি বা মিছিলের সঙ্গে জড়িত নয়। ছেলের পরীক্ষার প্রবেশপত্র নিয়ে থানায় গিয়েও কোনো ফল পাইনি। এখন ছেলের জীবনটা অনিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে।” তিনি অভিযোগ করেন, ‘সন্দেহ’ বা ‘ষড়যন্ত্রের’ কারণে ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে।
ঢালুয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলাল হোসেন মজুমদার বলেন, ইমরান শান্ত, ভদ্র ও নিয়মিত ক্লাস করা একজন শিক্ষার্থী। তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কোনো রেকর্ড বিদ্যালয়ে নেই। তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতি ইমরানের মুক্তি ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
নাঙ্গলকোট থানার ওসি জানান, ঘটনার রাতে গ্রেপ্তার হওয়া অন্যদের তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই ইমরানের নাম শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তাকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হবে। পুলিশের অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই।”
কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারও একই কথা বলেন—কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে মামলায় জড়ানো হবে না। তদন্ত শেষে সত্য উদঘাটিত হবে। আইন তার নিজস্ব পথে কাজ করবে।
এ ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে সামাজিক, শিক্ষাবান্ধব ও মানবিক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এক অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন ও ভবিষ্যৎ কি ভুল অভিযোগের কারণে অন্ধকারে ঢেকে যাবে—এই প্রশ্ন এখন মানুষের মনে। ইমরানের পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীরা তার মুক্তি, ন্যায়বিচার এবং পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।