1. info@crimeedition.com : Crime Edition : Crime Edition
  2. masud399340@gmail.com : ক্রাইম এডিশন : ক্রাইম এডিশন
রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ঈদযাত্রায় অনিয়মের অভিযোগ, মুখ খুললেন ডা শফিকুর রহমান ৫০০ টাকার ভাড়া ১২০০-১৬০০ টাকা, ঈদে গাজীপুরে নৈরাজ্য—মন্ত্রীর বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া অভিযোগ নেই ২০-৩০ টাকা কম নেওয়ার ঘটনা রয়েছে নরসিংদীতে পৃথক ঘরে দুই বন্ধুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার আত্মসমালোচনার বার্তা দিলেন এনসিপি নেতা নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী ময়মনসিংহে ছাদ থেকে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু সংসদে লিখিত বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক, ফেসবুক পোস্টে প্রশ্ন গোবিপ্রবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, দাম্পত্য কলহের অভিযোগ লালমনিরহাটে ঈদযাত্রায় ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল একই পরিবারের তিনজন বঙ্গবন্ধুর ১০৬তম জন্মবার্ষিকী আজ

দিনমজুর বাবার সংগ্রাম জয়ে দুই মেয়ের বিসিএস সাফল্যের গল্প

মোঃ শাহাদাত হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
  • প্রকাশিত: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

মোঃ শাহাদাত হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক দরিদ্র পরিবারের দুই মেয়ের বিসিএস ক্যাডার হওয়া আজ পুরো এলাকায় অনুপ্রেরণার আলো ছড়াচ্ছে। সীমাহীন দারিদ্র্য, অনিশ্চিত দিনযাপন এবং সংগ্রামের বাস্তবতা সামনে রেখেও তাঁদের বাবা–মা কখনোই শিক্ষার পথে বাধা হতে দেননি। কঠিন পরিস্থিতির মাঝেও তাঁরা বিশ্বাস রেখেছিলেন—শিক্ষাই পরিবর্তনের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। সেই বিশ্বাসই আজ সত্যে রূপ নিয়েছে।

 

সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের দিনমজুর আবদুল হান্নান ও তাঁর স্ত্রী নিজেদের স্বপ্নের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন সন্তানের পড়াশোনায়। পাঁচ কাঠা জমির ওপর টিনশেড ঘরে ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে তাঁদের প্রতিদিনের জীবন ছিল চরম কষ্টে ভরা। কিন্তু তবুও তাঁরা কখনো মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ বন্ধ করেননি। বাবা দিনের পর দিন রোদ–বৃষ্টিতে শ্রম দিয়ে উপার্জিত টাকা ব্যয় করেছেন সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য। মা ঘর–সংসার সামলানোর পাশাপাশি মেয়েদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে।

 

এই পরিবারে তিন মেয়ে ও এক ছেলে। এর মধ্যে দুই মেয়ে—সারমিন খাতুন এবং খাদিজা খাতুন—আজ বিসিএস ক্যাডার। ছোট বোন খাদিজা ৪১তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দিয়েছেন। বড় বোন সারমিন ৪৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে পেয়েছেন পশুসম্পদ ক্যাডার। দুই বোনই মনে করেন, তাঁদের সাফল্যের মূলে রয়েছে মায়ের ত্যাগ আর বাবার সংগ্রাম।

 

স্থানীয় শিক্ষকেরা জানান, সারমিন ও খাদিজার শিক্ষা অভিযাত্রা সহজ ছিল না। কুপির আলোয় রাত জেগে পড়াশোনা থেকে শুরু করে বইপত্র জোগাড় করা—সবই ছিল চ্যালেঞ্জের। কখনও কেরোসিন তেল না থাকায় তাঁরা প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়ে বিদ্যুতের আলোয় পড়তেন। তবুও থেমে যাননি।

 

এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ–৫ অর্জন করার পর তাঁদের সামনে খুলে যায় উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত। প্রথম আলো ট্রাস্টের বৃত্তি সারমিনের পড়াশোনায় বড় অবলম্বন ছিল। পরে খাদিজাও একই বিভাগে ভর্তি হয়ে বোনের সঙ্গে বৃত্তির টাকায় পড়াশোনার খরচ চালান। একই বিষয় পড়ায় তাঁদের বই–পত্রও ভাগাভাগি করে ব্যবহার করা হতো।

 

অবশেষে কঠোর পরিশ্রম এবং লক্ষ্যভেদী প্রস্তুতির ফল মিলেছে। দুই বোনের বিসিএস সাফল্যের পর বাবা–মায়ের আনন্দ আজ বর্ণনাতীত। আবদুল হান্নান আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, “মেয়েরা আমাদের কষ্টের মর্ম বুঝেছে। এখন গ্রামের মানুষ আমাদের সম্মান করে, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেয়—এটাই সবচেয়ে বড় সুখ।”

 

স্থানীয় মানুষ মনে করেন, সারমিন ও খাদিজার সাফল্য গ্রামীণ এলাকার মেয়েদের জন্য নতুন উদাহরণ। প্রমাণ হয়েছে—ইচ্ছাশক্তি, সুযোগ এবং সহায়তা থাকলে দারিদ্র্য কোনো বাধাই নয়।

 

খাদিজা খাতুন ফোনে বলেন, “আমরা এমন বাবা–মায়ের সন্তান হতে গর্ব করি। বড় বোনের ছায়া না পেলে এ পথ চলা আরও কঠিন হতো।”

 

এই পরিবারের সংগ্রাম ও সাফল্যের পথচলা আজ অনেকের জন্য আশার বার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি সোম
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  

© ২০২৫-২০২৬, ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই সাইটের সমস্ত লেখা, ছবি ও কনটেন্ট কপিরাইট আইনের আওতায়। অনুমতি ছাড়া কপি, ব্যবহার বা পুনঃপ্রকাশ নিষিদ্ধ। স্বত্বাধিকার দাবি থাকলে অনুগ্রহ করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। যথাযথ যাচাই-বাছাই ও প্রমাণ সাপেক্ষে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট অপসারণ করা হবে।

Theme Customized BY LatestNews