
অনলাইন ডেস্ক:
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যতিক্রমী এক প্রার্থী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায়। দীর্ঘদিন ধরে ভিক্ষা করে জীবন নির্বাহ করা এক বৃদ্ধ ব্যক্তি এবার সংসদ সদস্য হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। তার নাম ফকির আবুল মুনসুর। ভিক্ষা করে জমানো অর্থ দিয়েই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্রের ফরম কিনে তা জমা দিয়েছেন।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ময়মনসিংহ-৭ আসনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
ফকির আবুল মুনসুর ত্রিশাল উপজেলার বইলর ইউনিয়নের মঠবাড়ী এলাকার বাসিন্দা। তিনি মরহুম চান মিয়ার ছেলে। বয়স প্রায় ৭১ বছর। বয়সের ভারে ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে নিয়মিত কোনো কাজ করতে না পারায় দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সহায়তায় ও ভিক্ষার ওপর নির্ভর করেই তার সংসার চলে আসছে।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবুল মুনসুর বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তার মনে একটি আশা কাজ করছিল—এলাকার মানুষের জন্য কিছু করার। তিনি জানান, ত্রিশাল থেকে অতীতে যারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, তারা গরিব ও অসহায় মানুষের খোঁজখবর খুব একটা রাখেননি। এই হতাশা থেকেই তিনি নিজেই নির্বাচনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা নিয়ে তিনি অনেকদিন ধরে সাধারণ মানুষের কাছে গিয়েছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেছেন। অনেকেই তাকে সমর্থন ও সাহস দিয়েছেন। সেই উৎসাহ থেকেই ভিক্ষা করে জমানো টাকা দিয়ে মনোনয়নপত্র কিনেছেন।
ফকির মুনসুর জানান, যদি তিনি নির্বাচিত হতে পারেন, তাহলে গরিব, অসহায় ও অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। তাদের সমস্যা ও দাবি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তুলে ধরবেন এবং ন্যায্য অধিকার আদায়ের চেষ্টা করবেন। তার ভাষায়, “আমি বড় কিছু চাই না, শুধু চাই গরিব মানুষ যেন অবহেলিত না থাকে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, একজন ভিক্ষুকের সংসদ সদস্য হওয়ার স্বপ্ন যেমন বিস্ময়কর, তেমনি এটি সমাজের বাস্তব চিত্রও তুলে ধরে। অনেকেই এটিকে সাহসী ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে প্রতীকী প্রতিবাদ বলেও মন্তব্য করছেন।
ফকির আবুল মুনসুরের এই মনোনয়ন জমা দেওয়ার ঘটনাটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার ঝড় তুলেছে। শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে তার ভাগ্যে কী ঘটে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।