
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা দাবি করেছেন, দলীয় পর্যায় থেকে তাকে বারবার নির্বাচনী মাঠ ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। এমনকি মন্ত্রিত্ব দেওয়ার প্রলোভনও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে নিজের অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানিয়ে রুমিন ফারহানা বলেছেন, কোনো ধরনের পদ বা সুবিধার বিনিময়েই তিনি এলাকার জনগণের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন না।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ গ্রামে স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। সভায় উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, তাকে রাজনীতিতে নিয়ে আসার পেছনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার স্নেহ, আশ্রয় ও রাজনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমেই তিনি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগেও তার মনোনয়ন না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দল থেকে এখন নিয়মিত ফোন করে বলা হচ্ছে—তিনি যেন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন, বিনিময়ে তাকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, জীবিত থাকা অবস্থায় কোনো লোভ বা প্রস্তাব তাকে জনগণের অধিকার থেকে সরে যেতে বাধ্য করতে পারবে না।
তার বক্তব্যে উঠে আসে, রাজনীতি তার কাছে ব্যক্তিগত স্বার্থ নয় বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি মাধ্যম। তিনি বলেন, এলাকার মানুষের বিশ্বাস ও ভালোবাসাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই কোনো পদ-পদবির বিনিময়ে তিনি তাদের ছেড়ে যাবেন না।
এদিকে মতবিনিময় সভা চলাকালে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে রুমিন ফারহানার পক্ষের এক ব্যক্তিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে রুমিন ফারহানার কথাকাটাকাটির ঘটনাও ঘটে।
উল্লেখ্য, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে জোট প্রার্থীর বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরপর থেকেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য ও ঘটনাপ্রবাহ আসন্ন নির্বাচনে ওই আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।