
কুষ্টিয়ায় এক রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ইন্তেকাল করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবুল হাশেম। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে সংগঠনটির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন মহলে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার বিকেলে আয়োজিত একটি সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি হঠাৎ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি কথা বলতে কষ্ট অনুভব করেন এবং দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে উপস্থিত সহকর্মীরা তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানোর আগেই তিনি ইন্তেকাল করেন বলে জানা যায়।
চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি স্ট্রোক বা হৃদ্রোগজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
অধ্যাপক আবুল হাশেম ছিলেন একজন দীর্ঘদিনের ইসলামী আন্দোলনের কর্মী ও সংগঠক। তিনি শিক্ষা ও সাংগঠনিক—উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। স্থানীয় পর্যায়ে তিনি একজন পরিচিত শিক্ষক হিসেবেও সুপরিচিত ছিলেন। দ্বীনি শিক্ষা, নৈতিকতা ও সমাজ সংস্কারে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে জানান তাঁর সহকর্মীরা।
জামায়াতে ইসলামীর নেতারা জানান, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। সমাবেশে বক্তব্যরত অবস্থায় তাঁর ইন্তেকালকে তাঁরা দ্বীনি দায়িত্ব পালনের মধ্যেই দুনিয়া থেকে বিদায়ের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান গভীর শোক প্রকাশ করেন। এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের দীর্ঘদিনের ত্যাগ, নিষ্ঠা ও আদর্শিক নেতৃত্বের কথা স্মরণ করেন। পাশাপাশি তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
অধ্যাপক আবুল হাশেমের ইন্তেকালে কুষ্টিয়া জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীরা শোকাহত হয়ে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে তাঁর অবদান স্মরণ করে শোক ও দোয়ার বার্তা প্রকাশ করেন।
এদিকে, তাঁর জানাজা ও দাফনের বিষয়ে পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংগঠনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে।
অধ্যাপক আবুল হাশেমের মৃত্যু কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে একটি শূন্যতার সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একজন শিক্ষক, সংগঠক ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।