
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন—এমন অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির দাবি, নির্ধারিত সময়ের বাইরে মাইক ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো হয়েছে, যা স্পষ্টভাবে নির্বাচনী বিধিমালার পরিপন্থী।
মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় দলের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির বৈঠক শেষে রাজধানীতে এনসিপির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রচারণায় মাইক ব্যবহারের শেষ সময় রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও তারেক রহমান মধ্যরাত পর্যন্ত মাইক ব্যবহার করে বক্তব্য দিয়েছেন। এটি শুধু আচরণবিধি লঙ্ঘন নয়, বরং অন্য প্রার্থীদের জন্যও নেতিবাচক উদাহরণ তৈরি করছে।
আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, বিএনপি নিয়ম ভাঙার এই প্রবণতাকে নীরবে উৎসাহ দিচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীরা অনুমোদনহীন পোস্টার ব্যবহার করছেন এবং প্রচারণার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সীমা মানছেন না। এসব অনিয়ম নির্বাচনের পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এবারও নির্বাচনী কেন্দ্রে সেনাবাহিনীকে শুধু বাইরের নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত উদ্বেগজনক। এতে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে শৃঙ্খলা রক্ষায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি, সব কেন্দ্রে কার্যকর সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে এনসিপির মুখপাত্র নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে প্রশাসনিকভাবে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। যদি কমিশন ও প্রশাসন এসব অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে তাদের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আসিফ মাহমুদ। তার মতে, দেশের কিছু গণমাধ্যম একটি বিশেষ দলের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে, যা গণতন্ত্রের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি। তিনি সব গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
এদিকে, এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামীকাল বিকেল ৫টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পায়রা চত্বরে দলটির নির্বাচনী থিম সং-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা নির্বাচনী কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করতে চায় বলে জানান দলের নেতারা।
সার্বিকভাবে, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা এখন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।