
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতের নেতাকর্মীরা কোনো সময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি বা মুচলেকা দিয়ে আত্মগোপনে যাননি। তারা দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হলেও দেশের মাটিতেই অবস্থান করেছেন। যে রাজনৈতিক দল দেশের মানুষকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসে, সেই দলের নেতারা কখনো দেশ ছেড়ে পালায় না—এমন মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে টাকার বিনিময়ে বিচার কেনাবেচা হবে না। ধনী-গরিব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত—সব নাগরিকের অধিকার সমানভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। আইনের দৃষ্টিতে কেউ বড় বা ছোট থাকবে না।
কৃষি খাত নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কৃষিকে আর পুরনো ধাঁচে পরিচালনা করা যাবে না। আধুনিক প্রযুক্তি ও লজিস্টিক সাপোর্টের মাধ্যমে কৃষি ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করা হবে। এতে উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, কৃষকরা ফসল উৎপাদন করলেও বাজারে গিয়ে ন্যায্য দাম পান না। সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে অনেক সময় কৃষিপণ্য নষ্ট হয়ে যায়। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফসল ও সবজি সংরক্ষণের জন্য আধুনিক গুদাম ও সংরক্ষণাগার নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
জামায়াত আমির আরও বলেন, দলটি ক্ষমতায় গেলে পাঁচ বছরের জন্য জনগণের কাছ থেকে সুযোগ চাইবে। চাঁদাবাজি করে যারা জীবন চালায়, তাদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সম্মানজনক জীবনের পথ দেখানো হবে। কাউকে ভাতার লোভ দেখিয়ে নয়, কাজের নিশ্চয়তা দিয়ে দেশকে বেকারমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে এগোবে জামায়াতে ইসলামী।
তিনি বলেন, রংপুর অঞ্চলের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদের আত্মত্যাগ ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যারা বুক পেতে দিয়েছিল, তাদের রক্তের সঙ্গে কোনো ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে না।
গাইবান্ধা জেলার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখানে ইপিজেড স্থাপন, একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বালাশীঘাট থেকে বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত টানেল নির্মাণসহ বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ও রাজধানীর মতো মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন গাইবান্ধা-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু। অনুষ্ঠানে জামায়াত ও জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
সমাবেশ শেষে গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ তুলে দেন জামায়াত আমির এবং সবার কাছে ওই প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।