
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলীর অংশগ্রহণের পথ চূড়ান্তভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিলের যে আদেশ হাইকোর্ট দিয়েছিলেন, তা বহাল রেখেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ। ফলে এই আসনে তিনি আর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ সংক্রান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্টের আগের আদেশ বহাল রাখেন। আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের পূর্বের সিদ্ধান্তও কার্যত বাতিল হয়ে গেল।
আদালত সূত্রে জানা যায়, শুনানিকালে ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলীর পক্ষে একাধিক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন আহসানুল করিম, মোহাম্মদ হোসেন লিপু, সৈয়দ মামুন মাহবুব ও ব্যারিস্টার শামিম হায়দার পাটোয়ারী। অপরদিকে, রিটকারী বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল।
শুনানি শেষে ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল সাংবাদিকদের জানান, এর আগে গত ২১ জানুয়ারি হাইকোর্ট রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া উপজেলা ও রসিক এলাকার ১-৯ নম্বর ওয়ার্ড) আসনে ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন। আপিল বিভাগ সেই আদেশই আজ বহাল রেখেছেন।
এই মামলার পেছনের প্রেক্ষাপট বেশ দীর্ঘ। অভিযোগ উঠেছে গত ১ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় হলফনামায় দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ না থাকার অভিযোগে রংপুর জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। পরে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে প্রাথমিকভাবে তার মনোনয়ন বহাল না থাকলেও একাধিক ধাপে পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হয়।
অবশেষে গত ১৭ জানুয়ারি আপিল শুনানির অষ্টম দিনে নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রংপুর-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী মোকাররম হোসেন সুজন হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। সেই রিটের শুনানিতেই হাইকোর্ট মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন, যা এখন আপিল বিভাগেও বহাল থাকল।
বর্তমানে রংপুর-১ আসনে যেসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ রয়েছে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বিএনপির মোকাররম হোসেন সুজন, জামায়াতে ইসলামীর রায়হান সিরাজী, ইসলামী আন্দোলনের এটিএম গোলাম মোস্তফা, এনসিপির আল মামুন, গণঅধিকার পরিষদের হানিফুর রহমান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) আহসানুল আরেফিন, ইসলামিক ফ্রন্টের মো. আনাস এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. মমিনুর রহমান।
এই রায়ের ফলে রংপুর-১ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন করে পরিবর্তন আসতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।