
চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে কথা বলাকে কেন্দ্র করে এক ভিক্ষুককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর স্বজনদের দাবি, রাজনৈতিক মত প্রকাশের কারণে ওই ভিক্ষুক শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আহত ভিক্ষুকের নাম আবু তালেব। তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদ জোমা গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে আনুমানিক সকাল ১০টার দিকে আবু তালেব ভ্যানগাড়ি নিয়ে ভিক্ষার উদ্দেশ্যে বের হন। এ সময় তিনি কথোপকথনের একপর্যায়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে মত প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে সদর উপজেলা যুবদলের সহসভাপতি আশিক এবং কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি অনিকসহ আরও কয়েকজন আবু তালেবকে মারধর করেন। একই সঙ্গে তার ভিক্ষার কাজে ব্যবহৃত ভ্যানগাড়িটিও ভাঙচুর করা হয় বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।
মারধরের ঘটনায় আবু তালেব গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।
এ বিষয়ে আহত আবু তালেবের পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি একজন দরিদ্র ভিক্ষুক। রাজনীতি সম্পর্কে তার গভীর কোনো জ্ঞান নেই। কথার ভুল বোঝাবুঝি কিংবা মত প্রকাশের কারণেই এমন হামলা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়ে এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনক। একজন ভিক্ষুকের ওপর এমন হামলার অভিযোগ সামাজিকভাবে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তারা দ্রুত তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা না বাড়লেও সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।