
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে বাধার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা মহিলা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ। অভিযোগে বলা হয়েছে, ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. ফয়জুল হকের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারে অংশ নেওয়া নারী কর্মীদের যুবদল নেতাদের নেতৃত্বে বাধা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে রাজাপুর প্রেসক্লাবের সভাকক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা মহিলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য না থাকলেও মৌখিক বক্তব্যে উপজেলা মহিলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য খাদিজা বেগম অভিযোগ করেন, সোমবার সকালে তার নেতৃত্বে জামায়াত সমর্থিত একদল নারী কর্মী রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের পিংড়ি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে যান। তারা শান্তিপূর্ণভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাচ্ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় বিএনপি প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামালের সমর্থক হিসেবে পরিচিত প্রয়াত সাবেক উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাসিম উদ্দিন আকনের বড় বোন মাজেদা বেগম প্রথমে প্রচারে বাধা দেন। পরে তিনি মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানালে ঝালকাঠি জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জহিরুল হক সোহেলের নেতৃত্বে উপজেলা যুবদলের কয়েকজন নেতা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
তাদের মধ্যে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হাসান, মো. নাজমুল হক চমন, নাসিম, সাইফুলসহ কয়েকজন ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়। তারা নারী কর্মীদের প্রচার বন্ধ করতে চাপ সৃষ্টি করেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন বলে দাবি করা হয়।
মহিলা জামায়াতের নেত্রীরা জানান, প্রথম এলাকা থেকে সরে গিয়ে পাশের আরেকটি এলাকায় প্রচার চালাতে গেলে সেখানেও একইভাবে বাধার সম্মুখীন হতে হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং বলেন— “এই এলাকায় এ ধরনের প্রচার চলতে দেওয়া হবে না।”
ঘটনার খবর পেয়ে জামায়াতে ইসলামীর শুক্তাগড় ইউনিয়নের আমির আব্দুল আলিম ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ করে রাখা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে আশঙ্কা করে জামায়াতের নেতাকর্মীরা কোনো ধরনের সংঘাতে না জড়িয়ে এলাকা ত্যাগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এর আগেও একই এলাকায় তিন থেকে চার দিন আগে প্রচারণা চালাতে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল মহিলা জামায়াতের কর্মীদের।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমির মাওলানা মো. কবির হোসেন, উপজেলা মহিলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সেক্রেটারি মোসা. সাহিদা বেগম এবং সহ-সেক্রেটারি মারিয়ম বেগম। তারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনী পরিবেশে এ ধরনের বাধা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার বিভিন্ন স্তরের নারী নেত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন।