
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, যদি গণভোট বাতিল করা হয়, তবে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলামোটরের এনসিপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ এই মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সরকারি দল বিএনপিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদ কার্যকর করতে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণ নিশ্চিত করতে আহ্বান জানাচ্ছি। তার কথায়, “অধিবেশন ডাকা হোক, তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যরা শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন শুরু করুক।”
তিনি উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হলেও ফলাফলে কারচুপি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তারপরও গণতন্ত্র ও দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমরা ফলাফল মেনে চলার চেষ্টা করেছি। তবে সরকারের আচরণ জনগণের সঙ্গে প্রতারণার সমতুল্য হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
নাহিদ বলেন, “আমরা জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদকে কার্যকর করতে শপথ নিয়েছি। কিন্তু শপথ গ্রহণের প্রথম দিনেই সরকারি দল জনগণ এবং সংস্কারের পক্ষের মানুষদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এটি নতুন বাংলাদেশ গঠনে অন্তরায় সৃষ্টি করছে।”
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ আশা করে যে তাদের ভোটের মর্যাদা রক্ষা করা হবে। “গণভোট বাতিল হলে জনগণের আস্থা এবং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সরকারের দায়িত্ব হলো শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সংবিধান ও সংসদের কার্যক্রম সচল রাখা। এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা না করা ও সুশাসনের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রকাশ হবে।”
এছাড়া নাহিদ ইসলাম জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় ভূমিকা পালনের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কারের কার্যক্রমে সরকারের সহায়ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য প্রস্তুত আছি। তবে জনগণকে প্রতারিত করা হলে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হবে এবং গণতন্ত্র প্রশ্নবিদ্ধ হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আরও বলেন, গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের আস্থা। সরকার যদি এই আস্থা রক্ষা না করে, তবে দেশের সকল নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও জাতীয় প্রতিষ্ঠান প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
এদিকে তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদকে কার্যকর করা তাদের প্রাথমিক দায়িত্ব। এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ এড়িয়ে দেশকে সুস্থ ও স্থিতিশীল রাখার পথ দেখাবে।