
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে শাড়ি ও থ্রিপিস বরাদ্দকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর নেত্রী ডা. মাহমুদা আলম মিতু তার ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে ত্রাণ বণ্টনে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধান অনুযায়ী একজন প্রধানমন্ত্রী দেশের সব নাগরিকের জন্য সমানভাবে দায়িত্বশীল। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কেবল একটি দলের সমর্থকদের প্রতিনিধি নন, বরং যারা ভোট দিয়েছেন এবং যারা ভোট দেননি—সবাই তার দায়িত্বের আওতায় পড়েন। সেই কারণে সরকারি ত্রাণ বা সহায়তা বণ্টনের ক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনা করা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তার পোস্টে অভিযোগ করা হয়, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে সম্প্রতি ৭০০টি শাড়ি ও ১০০টি থ্রিপিস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে এই সহায়তা নাকি কেবল একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অন্য রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্বকারী এলাকাগুলো এই বরাদ্দের বাইরে রাখা হয়েছে।
ডা. মাহমুদা মিতু তার পোস্টে আরও বলেন, বিষয়টি সংখ্যার দিক থেকে খুব বড় কোনো সহায়তা নয়। তবে সহায়তা বণ্টনের ধরন ও পদ্ধতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। তার মতে, যদি ত্রাণ বিতরণে রাজনৈতিক বিভাজনের অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে সেটি জনমনে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সমতা, ন্যায়বিচার এবং উদার মানসিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও সাধারণ মানুষের কল্যাণমূলক সহায়তার ক্ষেত্রে সংকীর্ণতা দেখানো উচিত নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পোস্টে তিনি বলেন, রাজনীতি মূলত বৃহৎ মানসিকতার বিষয়। একজন রাষ্ট্রনেতার দায়িত্ব হলো সকল নাগরিকের প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করা এবং জনগণের আস্থা বজায় রাখা। তাই ত্রাণ বণ্টনের মতো বিষয়গুলোতে স্বচ্ছতা ও সমতা বজায় রাখা জরুরি বলে তিনি মত দেন।
এদিকে ডা. মাহমুদা মিতুর এই ফেসবুক পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন, আবার কেউ কেউ ভিন্ন মতও প্রকাশ করেছেন।
তবে ত্রাণ তহবিল থেকে শাড়ি ও থ্রিপিস বরাদ্দ নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টির প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য জানা যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বিতর্ক এড়াতে ত্রাণ বা সরকারি সহায়তা বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও সমতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠলে দ্রুত ব্যাখ্যা দেওয়া হলে জনমনে বিভ্রান্তি কমে যেতে পারে বলেও তারা মনে করেন।