
মৌলভীবাজারে এক অনুষ্ঠানে সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজির অভিযোগ তুলেছেন ডা. শফিকুর রহমান, যিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে স্থানীয়দের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবতার মিল পাওয়া যাচ্ছে না—এমন অভিযোগ উঠেছে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে। বিশেষ করে অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেন তিনি। তার দাবি, লাখো মানুষ ইতোমধ্যে ঢাকা ছেড়ে গ্রামে গেছেন, তাদের কাছে এই অর্থ কীভাবে পৌঁছানো হবে তা স্পষ্ট নয়। এ অবস্থাকে তিনি “প্রতারণার মতো পরিস্থিতি” বলে উল্লেখ করেন।
ঈদযাত্রা নিয়ে বিশৃঙ্খলার অভিযোগও তুলে ধরেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, যাত্রীরা টিকিট সংগ্রহ করতে গিয়ে নানা ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, টিকিট সংকট, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজির কারণে মানুষের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। মানুষের স্বাভাবিক আনন্দময় যাত্রা ব্যাহত হওয়ায় ক্ষোভও দেখা দিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের পর দেশকে স্বাভাবিক রাখতে বিরোধী পক্ষ অনেক কিছু মেনে নিয়েছে—এমন দাবি করেন তিনি। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি সরকার সঠিক পথে না ফেরে, তাহলে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে পারে। তিনি “জনগণের প্রতিক্রিয়া” প্রসঙ্গে ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, মানুষ অন্যায়-অবিচার সহজে মেনে নেবে না—এমন অভিযোগও উঠে আসছে বিভিন্ন মহল থেকে।
তিনি আরও বলেন, সরকার যদি স্পষ্টভাবে ঘোষণা দেয় যে দেশে আর চাঁদাবাজি ও অন্যায় হবে না এবং বাস্তবে তা কার্যকর করে দেখায়, তাহলে ইতিবাচক উদ্যোগে সহযোগিতা করার কথা ভাবা যেতে পারে। তবে জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত এলে তা প্রতিহত করার কথাও জানান তিনি।
এ সময় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগরের আমির মো. ফখরুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা-কর্মী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের ব্যস্ততার মধ্যেও নিজ এলাকায় উপস্থিত হওয়ায় অনেকেই সন্তোষ প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে প্রায় কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া নিজ গ্রামের কবরস্থানে গিয়ে কবর জিয়ারত করার পর তাকে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়।
সামগ্রিকভাবে, এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—এমনটিই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।