শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

মানহানি মামলায় জামিন পেলেন সাবেক বিচারপতি মানিক-মেনন-ইনু

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬

ঢাকার কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া একটি মানহানি মামলায় সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন এবং সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক জামিন পেয়েছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সংশ্লিষ্ট আদালত এ আদেশ দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-কে নিয়ে ‘আপত্তিকর মন্তব্য’ করার অভিযোগে এই মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন সময় জনসমক্ষে বক্তব্য প্রদানকালে আসামিরা জিয়াউর রহমান সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন, যা বাদীপক্ষের দাবি অনুযায়ী মানহানিকর।

এর আগে, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি একই মামলায় রাশেদ খান মেনন এবং বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক-কে গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে জানা যায়। পরে আদালতে জামিনের আবেদন করা হলে বিচারক শুনানি শেষে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ৩ অক্টোবর একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে অংশ নিয়ে বিচারপতি মানিক জিয়াউর রহমান-কে ‘রাজাকার’ ও ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলে উল্লেখ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, ২০২১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একটি সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না—এমন মন্তব্যও উঠে এসেছে অভিযোগে।

অন্যদিকে, ২০১৩ সালের ১৯ জুলাই পৃথক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেনন-এর বিরুদ্ধেও একই ধরনের মন্তব্য করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন সময়ে তারা জিয়া পরিবারকে নিয়েও সমালোচনামূলক ও বিরূপ বক্তব্য দিয়েছেন।

২০২৪ সালের ২২ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জিয়াউল হক নামের এক আইনজীবী বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। মামলার তিন আসামির বিরুদ্ধেই মানহানির অভিযোগ আনা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে কি না—তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

আইনজীবীদের মতে, মানহানি সংক্রান্ত মামলায় আদালত প্রাথমিকভাবে অভিযোগের ভিত্তিতে শুনানি গ্রহণ করে এবং পরবর্তী পর্যায়ে প্রমাণ-সাপেক্ষে বিচার কার্যক্রম এগিয়ে যায়। ফলে এ মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি বিচারাধীন হিসেবেই বিবেচিত হবে।

এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে এই জামিনের ঘটনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কেউ কেউ বলছেন, এটি একটি নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়ার অংশ, আবার কেউ বিষয়টিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখছেন।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© ২০২৬ ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

Theme Customized By BreakingNews