
জাতীয় সংসদে আলোচনার সময় নিয়ম প্রয়োগে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে। কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, সরকারপক্ষের ক্ষেত্রে নিয়ম কার্যকর থাকলেও বিপক্ষে গেলে সেটি ‘কাস্টম’ বা ভিন্নভাবে প্রয়োগ করা হয়।
রোববার (২৯ মার্চ) বিকেল প্রায় ৩টার দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের একটি মুলতবি বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন বলে সংসদ সূত্রে জানা গেছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
আলোচনায় অংশ নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন বলে জানা গেছে, সংসদের কার্যক্রমে নিয়মের বেড়াজাল অনেক সময় বিভ্রান্তিকর হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তার দাবি, কোনটি সাংবিধানিক আর কোনটি অসাংবিধানিক—এই বিষয়গুলো নিয়ে সংসদ সদস্যরা এক ধরনের জটিলতার মধ্যে পড়ছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কখনো কখনো তাকেও নিয়মের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করে রাখা হয়।
এ সময় তিনি স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানান বলে জানা গেছে, যাতে সংসদ সদস্যদের অপ্রয়োজনীয় সাংবিধানিক জটিলতার মধ্যে না রাখা হয় এবং আলোচনার সুযোগ আরও উন্মুক্ত করা হয়।
অন্যদিকে, অধিবেশনের এক পর্যায়ে ৭১ বিধির আওতায় আলোচনার মাঝখানে গণভোট ও জুলাই বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে আলোচনা তোলার বিষয়ে একটি নোট দেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বিষয়টি নিয়ে সংসদে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয় বলে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরে সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে, চলমান আলোচনার মধ্যে নতুন বিষয় যুক্ত করা সংসদের রীতি ও নিয়মের পরিপন্থী। তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন যে, স্পিকার চাইলে এ ধরনের রীতি পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিকার রেওয়াজ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দেন বলে জানা গেছে। তিনি জানান, ৭১ বিধির আলোচনার পর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এতে করে সাময়িক উত্তেজনা প্রশমিত হয় বলে সংসদ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সংসদের এই ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিয়ম প্রয়োগ নিয়ে এমন আলোচনা ভবিষ্যতে সংসদীয় কার্যক্রমে আরও বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।