
জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সড়কটির বর্তমান অবস্থা এতটাই নাজুক যে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বাড়ছে, অথচ দীর্ঘদিন ধরেই এর স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের বিরতির পর সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, “আমি ভিক্ষা চাই—এই সংসদের কাছে, এই রাস্তাটি প্রশস্ত করার ব্যবস্থা করুন।” তার এই বক্তব্যকে ঘিরে সংসদ কক্ষে আলোচনার সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে এবং এতে হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, তিনি বক্তব্য দেওয়ার কিছুক্ষণ আগেই ওই সড়কে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, চলতি মাসেই এই সড়কে অন্তত ২৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, সড়কটির বর্তমান প্রস্থ মাত্র ১৮ ফুট, যা দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তঃবিভাগীয় সড়কের জন্য অত্যন্ত অপ্রতুল। তার দাবি, বাংলাদেশে এমন আর কোনো সড়ক নেই যা দুটি বিভাগীয় শহরকে সংযুক্ত করে কিন্তু এত সরু। ফলে যানবাহনের চাপ ও অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যাচ্ছে।
সংসদ সদস্যের বক্তব্য অনুযায়ী, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ মানুষ যাতায়াত করেন। চট্টগ্রাম থেকে সিলেটে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটি অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, সড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়নে নানা প্রশাসনিক জটিলতা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে যে প্রকল্পটি দীর্ঘসূত্রতায় আটকে আছে। এ অবস্থায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এদিকে, সংসদে সভাপতির দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বিষয়টি যথাযথ প্রক্রিয়ায় উত্থাপনের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী নোটিশ দিলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে জবাব দেবেন এবং বিষয়টি কার্যপদ্ধতির আওতায় আসবে।
সড়ক দুর্ঘটনা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা নিয়ে এ ধরনের আলোচনা নতুন নয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চিহ্নিত হলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে এবং দ্রুত সমাধানের দাবি জোরালো হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত সংস্কার ও প্রশস্তকরণ জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।