
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চুরির ঘটনার পর উদ্ধার অভিযানে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ভাঙারি দোকান থেকে কিছু সরকারি মালামাল উদ্ধারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রশাসন তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটির পর অফিস খোলার প্রস্তুতির সময় ভূমি অফিসের বাইরে ঝুলন্ত বৈদ্যুতিক তার দেখতে পান দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি অফিসের ভেতরে প্রবেশ করে জানালার অংশ ভাঙা এবং বিভিন্ন কক্ষের তালা ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে অফিসের একাধিক সরঞ্জাম ও নথিপত্র এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া যায় বলে অভিযোগ করা হয়।
ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকটি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, ফ্যান, তার, পানির মোটর এবং কম্পিউটার সংশ্লিষ্ট কিছু যন্ত্রপাতি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিষয়টি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার দুপুরে গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে স্থানীয় বিএনপি নেতা আইয়ুব আলী খানের ভাঙারি দোকান থেকে কিছু মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযানের সময় দোকানে উপস্থিত একজন ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত আইয়ুব আলী খান অতীতে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির দায়িত্বশীল পদে ছিলেন বলে জানা যায়। তবে ঘটনার বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভাঙারি ব্যবসায় প্রতিদিন বিভিন্ন ব্যক্তি পুরোনো ও ব্যবহৃত মালামাল বিক্রির জন্য নিয়ে আসে। সেসব পণ্যের মধ্যে কোনোটি চুরি করা মালামাল কি না, তা সবসময় শনাক্ত করা সম্ভব হয় না বলে তারা মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধীকে খুঁজে বের করতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার কথাও জানিয়েছেন তারা।
উপজেলা প্রশাসনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ভূমি অফিসে সংঘটিত ঘটনাটি গুরুতর। উদ্ধার করা মালামালের সঙ্গে অফিস থেকে হারিয়ে যাওয়া সামগ্রীর মিল পাওয়া গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দায়ী করা হচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, হারিয়ে যাওয়া সব সরঞ্জাম এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে কিছু ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ও তথ্য সংরক্ষণ ডিভাইসের খোঁজ চলছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানা গেছে।
এদিকে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। প্রশাসন বলছে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।