
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নিয়ে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি জানান, বৈরী আবহাওয়া বা অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে যেসব পরীক্ষার্থী নির্ধারিত দিনে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের দুটি ভুল প্রশ্নের ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারেননি। বিশেষ করে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন কয়েকটি জেলায় পরিস্থিতি বেশি জটিল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য এলাকাতেও বিচ্ছিন্নভাবে কিছু পরীক্ষার্থী একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যেসব পরীক্ষার্থী শুধুমাত্র প্রতিকূল আবহাওয়া বা সংশ্লিষ্ট অনিবার্য কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে স্থগিত হওয়া একই বিষয়ের পরীক্ষার নির্ধারিত তারিখে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় যে তারিখ ও সময় নির্ধারণ করবে, সেই সূচি অনুযায়ী তাদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ এই সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের দুটি প্রশ্নে ভুল থাকার অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে বিষয়টি পর্যালোচনার পর সংশ্লিষ্ট দুই প্রশ্নে পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে শিক্ষামন্ত্রী জানান।
এছাড়া ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। অভিযোগের পর দায়ী ব্যক্তিদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে জানানো হয়েছে।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এবার সারা দেশে প্রায় ১২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়েকটি অঞ্চলে পরীক্ষা পরিচালনায় বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন দেখা দেয়।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট মহলের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হলে তাদের শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব কমবে। একই সঙ্গে পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা বজায় রাখতে প্রশ্নপত্র প্রণয়নের প্রতিটি ধাপে আরও সতর্কতা বাড়ানোর পরামর্শও উঠে এসেছে।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী নির্দেশনা ও সংশোধিত পরীক্ষার সময়সূচির দিকে নজর রাখতে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নতুন কোনো সিদ্ধান্ত বা পরিবর্তন এলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।