
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক স্কুলশিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ—এমনটাই অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার কুটি ইউনিয়নের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার ব্যক্তি এরফানুর রহমান (৩২) স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তিনি উপজেলার খাড়েরা গ্রামের বাসিন্দা বলেও জানা গেছে।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক ঢাকায় বসবাসকারী এক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। তবে নির্দিষ্ট সময়ে বিয়ে না করে চলতি মাসের ১০ এপ্রিল অন্য এক নারীকে বিয়ে করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী গত ১৪ এপ্রিল রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন বলে জানা গেছে। মামলার ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযানে নামে।
পরে কসবা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে রোববার দুপুরে তাকে গ্রেফতার করে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঢাকায় দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে তাকে আটক করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাকে রাজধানীতে পাঠানো হয়েছে।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, অভিযোগ অনুযায়ী মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের মধ্যে ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সঠিক তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা বা শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ বাংলাদেশে নারী নির্যাতন আইনের আওতায় গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।