
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, জুলাইয়ে সংঘটিত সহিংসতায় নিহত শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা রোকেয়া বেগমকে মনোনয়ন দিয়েছে একটি বিরোধী জোট। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় প্রকাশিত একটি তালিকায় দেখা গেছে, ১১ দলীয় জোটের প্রস্তাবিত ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে রোকেয়া বেগমের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জানা গেছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে তাকে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত বক্তব্য এখনও স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় এক মর্মান্তিক ঘটনায় নিজের পরিবারের সামনেই পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারায় শিশু জাবির ইব্রাহিম—এমন দাবি বিভিন্ন মহল থেকে করা হয়েছে। সেই ঘটনার পর তার পরিবার নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। এবার সেই ঘটনার প্রেক্ষাপটে তার মাকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
জোটের তালিকায় রোকেয়া বেগম ছাড়াও আরও কয়েকজন নারী নেত্রীর নাম রয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে জামায়াত ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নেত্রী ছাড়াও অন্যান্য দল থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকেও দুইজন নারী প্রার্থী মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ এপ্রিল। এরপর ২২ ও ২৩ এপ্রিল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে। যদি কোনো আপত্তি ওঠে, তবে তা ২৬ এপ্রিলের মধ্যে আপিল করা যাবে এবং ২৭ ও ২৮ এপ্রিলের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
চূড়ান্ত প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল এবং আগামী ১২ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
সার্বিকভাবে, একটি মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত পরিবারের সদস্যকে রাজনৈতিকভাবে সামনে আনার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে বলে জানা গেছে। তবে বিষয়টি কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।