
রাজধানীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) শনিবার বিকেলে এ প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে জমা দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মামলার তদন্ত কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দ্রুত চার্জশিট প্রস্তুতের কাজও চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী রোববার আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, ডিএনএ প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে মামলার নথিপত্র চূড়ান্ত করা হচ্ছে। তদন্তের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, শিশু রামিসার মর্মান্তিক মৃত্যু ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে। মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকেও মামলার সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, মামলার আলামত সংগ্রহ ও ফরেনসিক পরীক্ষার অংশ হিসেবে ডিএনএ রিপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে আরও তথ্য যাচাই চলছে।
তবে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখনই বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করতে রাজি হননি। তাদের দাবি, তদন্তের স্বার্থে অনেক তথ্য গোপন রাখা প্রয়োজন। আদালতে চার্জশিট জমা হওয়ার পর মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে।
শিশু নির্যাতন ও নারী সহিংসতার ঘটনায় সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে মতামত উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা গেলে অপরাধ প্রবণতা কমানো সম্ভব হতে পারে।
এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাতেও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত শিশুর পরিবার এখনও শোকাহত অবস্থায় রয়েছে বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন। বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হবে—এমন প্রত্যাশা তাদের।