
সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি দাবি করেছেন, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নাকি রাষ্ট্রপতি হওয়ার চেষ্টা করছেন। বুধবার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি এমন মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে।
ভিডিও বক্তব্যে গোলাম মাওলা রনি অভিযোগ তুলে বলেন, ড. ইউনূস বর্তমানে রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের মুখে রয়েছেন এবং তিনি একটি “সুরক্ষিত অবস্থান” খুঁজছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ এবং বঙ্গভবনের নিরাপত্তা ড. ইউনূসের জন্য সম্ভাব্য আশ্রয় হতে পারে। যদিও এসব বক্তব্যের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
রনি আরও বলেন, রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর ড. ইউনূস নানাভাবে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তার দাবি, আন্তর্জাতিক মহলেও আগের মতো গ্রহণযোগ্যতা নাও থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে ড. ইউনূস কিংবা তার ঘনিষ্ঠ কোনো সূত্র থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগকে ঘিরেও নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করেন, “আওয়ামী লীগ ব্যাক করেনি, তারা ছিলই।” তার মতে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন পক্ষের আচরণের কারণেই দলটি নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে।
অন্যদিকে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আলোচিত ভূমিকা রাখা মাহফুজ আলম এক ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, দেশে “মব সংস্কৃতি” ও উগ্র রাজনৈতিক চর্চা বাড়ার কারণেই আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তার পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা দেখা যায়।
এই প্রসঙ্গে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মাহফুজ আলমের সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সময়ের নানা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে তিনি “সময় গেলে সাধন হবে না” মন্তব্যও করেন।
একই দিনে সাংবাদিক পুলক ঘটক দেশের গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি দুটি জাতীয় দৈনিকের সংবাদ উপস্থাপনার তুলনা টেনে কোনটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে—এমন প্রশ্ন তুলেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে রাজধানীতে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড নিয়েও সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ডা. শফিকুর রহমান এক আবেগঘন পোস্টে শিশু হত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। তিনি নিহত শিশুর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানান।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতৃবৃন্দের ধারাবাহিক পোস্ট এবং পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।